মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা
বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী এখন গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে
বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে রণতরীটি সেখানে অবস্থান নিয়েছে।
সোমবার (২৩ এপ্রিল) রণতরীটি ক্রিটে পৌঁছায়। গ্রিসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে এথেন্সে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে না আসে, তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি; যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
সৌদা বে নৌঘাঁটিতে প্রায় এক হাজার মানুষ কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে সক্রিয় সামরিক সদস্য, মার্কিন বেসামরিক কর্মী, স্থানীয় কর্মচারী, ঠিকাদার এবং তাদের পরিবার অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ রয়েছে।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল। সে সময় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ওই চুক্তির আওতায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ায়—যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম