প্রাণঘাতী অস্ত্র নীতিতে অনড় অ্যানথ্রপিক, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সব ফেডারেল সংস্থাকে অবিলম্বে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে পেন্টাগন ও এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের মধ্যে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা এসেছে।
বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যানথ্রপিকের ক্লড এআই সিস্টেমের ব্যবহার। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর চেয়েছিল, কোম্পানিটি তাদের এআই ব্যবহারের নৈতিক সীমাবদ্ধতা শিথিল করুক।
কিন্তু অ্যানথ্রপিক গণ-নজরদারি বা মানবীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে তাদের প্রযুক্তি অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণে অ্যানথ্রপিকের ক্লড এআই সিস্টেমের সহযোগিতা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে অ্যানথ্রপিকের ওপর চড়াও হন। তিনি লেখেন, কোম্পানিটি বড় ভুল করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বদলে নিজেদের নীতিমালা চাপিয়ে দিতে চেয়েছে।
ট্রাম্পের পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দেন, অ্যানথ্রপিককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সাপ্লাই-চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সাপ্লাই-চেইন ঝুঁকি সাধারণত বিদেশি প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
তিনি জানান, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যাবসা করা কোনো ঠিকাদার বা অংশীদার অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
পেন্টাগনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের ২০০ মিলিয়ন ডলারের দুই বছরের চুক্তি ছিল। তবে ছয় মাসের একটি রূপান্তরকালীন সময় পর্যন্ত তাদের এআই সেবা সীমিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করেছে।
এদিকে, একই দিনে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ঘোষণা দেন, তাদের প্রতিষ্ঠান পেন্টাগনের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে তিনি বলেন, গণ-নজরদারি ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো নিরাপত্তা নীতিগুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং পেন্টাগনও এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
অ্যানথ্রপিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষা দপ্তর বা হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি এবং এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে। কোম্পানিটি দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ অভূতপূর্ব এবং আগে কখনো কোনো মার্কিন কোম্পানির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি।
সিলিকন ভ্যালিতেও এ ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওপেনএআই ও গুগলের শত শত কর্মী একটি খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, এআই কোম্পানিগুলোকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, পেন্টাগন অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গেও একই শর্তে আলোচনা করছে।
সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
কেএম