লিমন-বৃষ্টিকে হত্যায় অভিযুক্ত হিশাম চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার লিমন ও বৃষ্টি/ছবি: এনবিসি নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়া মরদেহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার বিষয়ে চ্যাটজিপিটির সহায়তা চেয়েছিল। আদালতের একটি নথি অনুসারে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টির (২৭) মৃত্যুর জন্য ২৬ বছর বয়সী হিশামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হিশামের রুমমেট ছিলেন লিমন।

আদালতের নথিতে, হিশামকে বিচার চলাকালীন কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার দাখিল করা একটি আবেদনে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন যে, লিমন এবং বৃষ্টি নিহত হওয়ার তিন দিন আগে অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল রাতে চ্যাটজিপিটির কাছে কাউকে ডাস্টবিনে ফেলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন হিশাম।

প্রসিকিউটররা বলেন, হিশাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিল, যদি একজন মানুষকে একটি কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হবে?

নথি অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি উত্তর দিয়েছিল যে এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে। এর জবাবে হিশাম আরেকটি বার্তা পাঠান যে, তারা কীভাবে জানতে পারবে? এ বিষয়ে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রসিকিউটররা লিখেছেন, হিশামের এক রুমমেট তদন্তকারীদের বলেছেন যে, তিনি ১৭ এপ্রিল তাকে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের একটি কম্প্যাক্টর ডাম্পস্টারে তার ঘর থেকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স সরাতে দেখেছেন। নথিতে বলা হয়েছে, ডাম্পস্টারটি তল্লাশি করে লিমনের জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি স্টুডেন্ট আইডি এবং তার নাম লেখা একটি ক্রেডিট কার্ড ছিল।

নথি অনুযায়ী, ডাম্পস্টার থেকে পাওয়া একটি ধূসর টি-শার্টের ডিএনএ পরীক্ষায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, জেনেটিক উপাদানটি সম্ভবত লিমনের এবং একটি কিচেন ম্যাটে বৃষ্টির জেনেটিক উপাদান পাওয়া গেছে।

দাখিল কর নথিতে বলা হয়েছে, শেরিফের তদন্তকারীরা শুক্রবার একটি ভারী ময়লার ব্যাগের ভেতর থেকে লিমনের দেহাবশেষ খুঁজে পান, যেখান থেকে গন্ধ আসছিল। ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুকে ‘একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে’ সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার মানুষের একটি দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। কিন্তু এটি বৃষ্টির কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে, সে বিষয়ে শেরিফের কার্যালয় কিছু জানায়নি।

টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।