কেন রাশিয়ায় গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় এবং যৌথ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেছেন, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
রাশিয়া ও ইরান দীর্ঘদিনের মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মস্কো তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থক হিসেবে কাজ করছে। ক্রেমলিন প্রস্তাব দিয়েছিল, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে সংরক্ষণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করতে, তবে সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হয়। যদিও এই চুক্তিতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভ সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং আলোচনায় সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইশাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে এ মন্তব্য করেন।
এর আগে মার্চ মাসে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, জাহাজ ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে—যা এই যুদ্ধে মস্কোর সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
রাশিয়া সফরের আগে আরাঘচি পাকিস্তান ও ওমানে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সফর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের অংশ।
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম