ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে

‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’: চীন-মার্কিন সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পিং পিং (পুরুষ) এবং ফু শুয়াং (স্ত্রী)/ছবি: চীনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তর

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলমান অস্থিরতার মাঝে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্ট হচ্ছে। পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে বিভিন্ন ধরনের ডিপ্লোম্যাসি গ্রহণ করে। এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় পান্ডা ডিপ্লোমেসি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে উঠে এসেছে।

চীনের সফট পাওয়ারের কৌশল হিসেবে এই কূটনীতি গ্রহণ করে। যখন কোনো দেশের সাথে চীনের সুসম্পর্ক থাকে কিংবা নতুন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় পান্ডা পাঠানো হয়। আবার, সম্পর্কের টানাপোড়েন হলে পান্ডাগুলো ফেরত আনা হয়।

নানাবিধ বাণিজ্য এবং ইরান যুদ্ধ ঘিরে তলানিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রায় নিতে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পান্ডা কূটনীতি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের জু আটলান্টায় চিড়িয়াখানায় দুটি জায়ান্ট পান্ডা পাঠাবে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও এটি বেইজিংয়ের ‘পান্ডা কূটনীতি’-র সর্বশেষ উদ্যোগ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের এক মাসেরও কম সময় আগে চীনের পান্ডা কূটনীতি বেশ আলোচিত হচ্ছে।

চীনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চেংডু পান্ডা জায়ান্ট পান্ডা রিসার্চ সেন্টার থেকে জু আটলান্টায় ১০ বছরের জন্য দুটি পান্ডা পাঠানো হবে। এই পান্ডা দুটির নাম পিং পিং (পুরুষ) এবং ফু শুয়াং (স্ত্রী)। গত বছর চিড়িয়াখানার সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ১০ বছরের সংরক্ষণ অংশীদারত্ব কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সংস্থাটি পান্ডাদের পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরামদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ কাজে চীনা বিশেষজ্ঞরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, সংরক্ষণে এই নতুন সহযোগিতা পান্ডাদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ উন্নত করবে, বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা করবে এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদার করবে।

‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’

সপ্তম শতকে চীনে তাং রাজবংশের আমলে পান্ডা কূটনীতির সূচনা হয়েছিল। আধুনিক সময়ে, ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের পর এই কূটনীতি নতুন মাত্রা পায় এবং পশ্চিমের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অতীতে উপহার হিসেবে দিলেও বর্তমানে চীন পান্ডা উপহার দেয় না। ১০-১৫ বছরের চুক্তিতে বা দীর্ঘমেয়াদি ঋণে বিদেশি চিড়িয়াখানাগুলোতে তারা পান্ডা পাঠায়। এই চুক্তির অধীনে, বিদেশে জন্মগ্রহণকারী পান্ডা শাবকগুলোও চীনের মালিকানাধীন হিসেবে গণ্য হয়। ডিপ্লো ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, পান্ডাগুলো সাধারণত বছরে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার (সংরক্ষণ ফি) বা তার বেশি টাকার বিনিময়ে ঋণে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন>>
জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে নতুন অধ্যায় ‘ড্রামস্টিক ডিপ্লোমেসি’

সম্প্রতি ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে চীন। সরাসরি সামরিক সহযোগিতার কথা অস্বীকার করলেও চীনের প্রযুক্তিগত সাহায্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি চীন সফরে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জায়ান্ট পান্ডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বন্ধুত্বের প্রতীক। ১৯৭২ সালে চীন ওয়াশিংটনের জাতীয় চিড়িয়াখানায় এক জোড়া পান্ডা উপহার দেওয়ার পর থেকেই এই সম্পর্কের সূচনা হয়। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাদের পান্ডা ঋণ কর্মসূচি নরম কূটনীতির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২০২৪ সালে শেষ হওয়া একটি চুক্তির অধীনে আটক থাকা পান্ডা লুন লুন ও ইয়াং ইয়াং সাতটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুই ছোট শাবকসহ চীনে ফেরত আনা হয়েছিল।

সূত্র: সিজিটিএন, সিনহুয়া, এপি

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।