মহামারির পর বড় অর্থনৈতিক সংকটের পথে উপসাগরীয় অঞ্চল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
দুবাই। ছবি: এএফপি (ফাইল)

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে, যা উপসাগরীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির প্রভাব।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারের বিভিন্ন রিফাইনারি ও গ্যাস স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে।

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী—কাতারের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে ৬ শতাংশ, কুয়েতের ৪.৪ শতাংশ ও বাহরাইনের ২.৯ শতাংশ। তাছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির।

যেখানে জানুয়ারিতে এসব দেশের জন্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও ওমান তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকলেও তাদের প্রবৃদ্ধিও আগের তুলনায় কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বাড়া সাধারণত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য লাভজনক হলেও এবার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উল্টো প্রভাব পড়েছে। এতে শুধু জ্বালানি খাত নয়, পর্যটন, খুচরা ব্যবসা এবং অন্যান্য খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়, তাহলে ২০২৭ সালে এসব দেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফও আশা করছে, জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন স্বাভাবিক হলে পুনরুদ্ধার সম্ভব।

তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে, যার প্রভাব উপসাগরীয় দেশগুলোতেও পড়ছে। বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির হার আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেড়ে গেছে।

এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।