পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে জেন-জি’রা?
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটে ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মের প্রভাব পড়তে পারে। বিধানসভার ভোটে তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। তা প্রত্যক্ষভাবেই হোক বা পরোক্ষ যেভাবেই হোক।
শেষ দফা অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশে সব ধরনের প্রচারণা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে শহরের যে কোনো অলিগলিতে গেলেই প্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার, ব্যানার, পতাকা দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখের মতো। এর মধ্যে ‘জেন জি’ অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা এক-পঞ্চমাংশ বা তার চেয়ে একটু বেশি। ফলে এবারের নির্বাচনে ‘জেন জি’দের ভোট একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের পছন্দ-অপছন্দ যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেন জিরা কেবল ভোটার নয় বরং এবারের ভোটে প্রবাহিত করার মতো একটি সচেতন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেও কাজ করবে তারা। ভোটদান এবং তার ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে তারা।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার সরকারি আরজিকর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হন এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। এরপর পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে সেই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতে যার নেতৃত্বে ছিল ‘জেন জি’।
এই প্রজন্মেরই এক তরুণ সদস্য অমিত দাস জানান, যে সমাজে নারী সুরক্ষা রয়েছে, জেন জি সেই সমাজই প্রত্যাশা করে। তার দাবি, এ রাজ্যে শিল্প নেই, চাকরি নেই, কলকারখানা নেই, তাহলে কি করে নতুন প্রজন্ম সারভাইভ করবে?
অমিত বলেন, আমরা চাই এই সরকারের পরিবর্তন। গত ১৫ বছর ধরে এই সরকারকে দেখেছি। পরিবর্তনের পর নতুন সরকারও যদি কাজ না করে তাহলে তরুণ প্রজন্ম তাকেও সরিয়ে দেবে।
কিন্নয় রায় চৌধুরী নামে আরেক তরুণ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার অবকাঠামোই নেই, কর্মসংস্থান নেই। ফলে তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা কেউ কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে চলে যাচ্ছেন, কেউবা ভালো শিক্ষার অভাবে বাধ্য হয়ে কম বেতনের চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তারুণ্যের ভোট এবার শিক্ষা, কাজের দাবিতে হবে।
কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো ইস্যুগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জেন জি। পশ্চিমবঙ্গে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মাসিক ভাতার মতো উদ্যোগগুলো তরুণদের টানার চেষ্টা হলেও, তারা স্থায়ী কর্মসংস্থানকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
দেবমিত্রা ঘোষ রায় বলেন, আমরা চাইছি সবার জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থান। সব বন্ধ কলকারখানার দরজা খুলে যাক। শিক্ষিত বেকার যুবকরা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ পাক। স্কুল থেকে ঝরে পড়ারা স্কুলে ফিরে যাক।
ডিডি/টিটিএন