জেট ফুয়েল সংকটের প্রথম ধাক্কা আসবে এশিয়ায়
বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েল সংকটের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে এবং এর প্রথম ধাক্কা পড়বে এশিয়ায়। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রধান উইলি ওয়ালশ।
তিনি জানান, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে জ্বালানি সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার মতে, ফ্লাইটের চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে, তবে জেট ফুয়েলের ঘাটতি বিশেষ করে এশিয়ায় আগে দেখা দেবে, এরপর ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাড়তি খরচ দীর্ঘদিন ধরে বহন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেন, এয়ারলাইনসগুলো এই বিশাল খরচ নিজেরা বহন করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরই পড়বে। অর্থাৎ টিকিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি রেশনিংয়ের কারণে ফ্লাইট বাতিলও হতে পারে।
যদি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রীষ্মকালীন সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে জার্মানির বিমান সংস্থা লুফথানসা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা প্রায় ২০ হাজার স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট বাতিল করবে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ফ্লাইট এখন অলাভজনক হয়ে পড়ায় বিমান সংস্থাগুলোকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
শুধু লুফথানসা নয়, আরও কয়েকটি বড় এয়ারলাইন কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে কমিয়েছে এবং যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত খরচ চাপাতে টিকিটের দাম বাড়িয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম