৩ মুসলিম দেশ ও ইসরায়েলে বিপুল অর্থের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ০২ মে ২০২৬
ছবি: ইউএস এয়ার ফোর্স

কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলের জন্যেও অ্যাডভান্স প্রিসিশন কিল উইপেন সিস্টেম (এপিকেডব্লিওএস) দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তির সম্ভাব্য মোট মূল্য প্রায় ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রি ইসরাইলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়বে। তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, এই সরঞ্জাম ও সেবা নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে ইসরাইলের কোনো সমস্যা হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস। এর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের কাছে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম পুনরায় সরবরাহ সেবা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কাতারের জন্য ৯৯২ মিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভান্স প্রিসিশন কিল উইপেন সিস্টেম বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কুয়েতের কাছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল কমান্ড সিস্টেম বিক্রিরও সবুজ সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাম্প্রতিক এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেনেভায় আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে ইরানের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর আছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান-মার্কিন সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।