মুখ্যমন্ত্রী হওয়া অনিশ্চিত, শপথ নিতে না পারলে কী করবেন বিজয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
থালাপতি বিজয়/ ফাইল ছবি: পিটিআই

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয়। তার দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) সরকার গঠনের দাবি জানালেও তাতে সায় দেননি রাজ্যপাল আর ভি আরলেকর। উল্টো ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের আনুষ্ঠানিক চিঠি চেয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজয়ের দল।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বিজয়কে রাজ্যপালের বাসভবনে তলব করা হয়। সেখানে বিজয়কে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে ১০৮ জন নিজস্ব বিধায়ক এবং ভারতীয় কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কসহ মোট ১১৩ জন নিয়ে তিনি কীভাবে সরকার চালাবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন রাজ্যপাল। সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আরও পাঁচজন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন বিজয়ের।

আরও পড়ুন>>
থালাপতি বিজয়: তামিলনাড়ুতে ৪৯ বছরের ‘অভিশাপ’ ভাঙতে চলেছেন যিনি
ঐতিহাসিক জয় নিয়ে কী বললেন থালাপতি বিজয়?
সরকার গঠন করতে কংগ্রেসের সাহায্য চান থালাপতি বিজয়

বৈঠক সূত্র জানায়, রাজ্যপাল আরলেকর সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তবে বিজয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি বিধানসভায় ‘ফ্লোর টেস্ট’ বা শক্তি প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।

জটিল সমীকরণে বিজয়

বিজয় ও তার দল টিভিকে মূলত বামপন্থি দল এবং কিছু আঞ্চলিক দলের সমর্থনের ওপর ভরসা করছে। কংগ্রেস এরই মধ্যে বিজয়কে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তাদের শর্ত হলো—টিভিকে কোনোভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ বা বিজেপির সঙ্গে জোট করতে পারবে না।

হিসাব অনুযায়ী, টিভিকে (১০৮), কংগ্রেস (৫), বাম দল (৪) এবং ভিসিকে ও পিএমকের সমর্থন পেলে বিজয়ের ঝুড়িতে আসবে ১২৩টি আসন। তবে বিজয় দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় একটি আসন ছেড়ে দিলে সংখ্যাটি দাঁড়াবে ১২২-এ।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ভিসিকে বর্তমানে বিদায়ী দল ডিএমকের সঙ্গে এবং পিএমকে বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে। বিজয়কে সমর্থন দিতে হলে তাদের বর্তমান জোট ছাড়তে হবে।

এআইএডিএমকে ফ্যাক্টর

তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দল এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজয়ের জোট হওয়া নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও দলের শীর্ষ নেতারা তা নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও খবর পাওয়া গেছে, এআইএডিএমকের ডজনেরও বেশি বিধায়ক বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলাতে আগ্রহী এবং তারা পুদুচেরির একটি রিসোর্টে অবস্থান করছেন।

কিন্তু দলটির নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন, বিজয়ের সঙ্গে জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই। বিজয় নিজেও বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা এই দলটির সঙ্গে জোটে যেতে কিছুটা অনিচ্ছুক।

কেন্দ্রীয় শাসনের শঙ্কা

যদি বিজয় শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রমাণ করতে না পারেন, তবে রাজ্যপাল বিধানসভা স্থগিত রেখে কেন্দ্রে ‘প্রেসিডেন্ট শাসন’ জারির সুপারিশ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তামিলনাড়ুতে পুনরায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বর্তমানে বিজয়ের দলের ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে চেন্নাইয়ের অদূরে মামাল্লাপুরামের একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিনয়ের রুপালি পর্দা কাঁপানো বিজয় এখন রাজনীতির আসল মারপ্যাঁচে পড়েছেন। রাজভবন যদি শেষ পর্যন্ত অনড় থাকে, তবে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে টিভিকে।

কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।