ইন্দোনেশিয়ায় তিন শতাধিক বিদেশি নাগরিক আটক
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনলাইনে জুয়া চক্র পরিচালনার অভিযোগে তিন শতাধিক বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৯ মে) পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জুয়া পরিচালনা, এতে অংশ নেওয়া কিংবা অনলাইনে জুয়া সংক্রান্ত প্রচারণা চালানোর জন্যও শাস্তির বিধান রয়েছে।
পুলিশ বৃহস্পতিবার জাকার্তার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৩২১ জন বিদেশিকে আটক করে। এ সময় মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়।
আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন ভিয়েতনামের নাগরিক, মোট ২২৮ জন। এছাড়া ৫৭ জন চীনা, ১১ জন লাওসের, পাঁচজন থাইল্যান্ডের এবং তিনজন করে কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা উইরা সাতিয়া ত্রিপুত্র।
তিনি জানান, আটক ২৭৫ জনের বিরুদ্ধে জুয়া ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
উইরা বলেন, আমরা অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরেছি। তারা অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে শুরু হওয়া এই চক্রটি ইন্দোনেশিয়ার বাইরের মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানাতো। তবে কোনো কোনো দেশের মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা উল্লেখ করেননি তিনি।
চীনে কঠোর অভিযান শুরুর পর বহু প্রতারক চক্র ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম সরিয়ে নিয়েছে বলে আগেও জানিয়েছিল পুলিশ।
এদিকে একই সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ প্রদেশের বাতাম শহরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অভিযান চালিয়ে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে আরও ২১০ জন বিদেশিকে আটক করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পর্যটন দ্বীপ বালির দুটি ভিলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ জুয়া পরিচালনার অভিযোগে ৩৯ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৮০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহর বেশি, যা প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ধারণা করা হয়, ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ইন্দোনেশীয় এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম