তারুণ্যের জয়
বিজয়ের দলে ৯৩ বিধায়কই নতুন মুখ, রয়েছেন ২৮ বছর বয়সীও
প্রথম নির্বাচনে অভাবনীয় জয় এবং সরকার গঠন নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দর-কষাকষির পর অবশেষে শপথ নিতে যাচ্ছে জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগাম (টিভিকে)। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় কংগ্রেস, ভিসিকে, বাম ও আইইউএমএলের সমর্থনে ১২১ জন বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়ছেন থালাপতি বিজয়। তবে সবার নজর এখন বিজয়ের মন্ত্রিসভার দিকে, যার বড় একটি অংশ দখল করে আছে তরুণ ও নতুন মুখ।
টিভিকের জয়ের নেপথ্যে বড় শক্তি ছিল তরুণ ভোটাররা। দলটির ১০৭ জন বিধায়কের (বিজয় নিজে দুটি আসনে জেতায় একটি বাদে) মধ্যে ৯৩ জনই প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছেন। এমনকি খোদ দলপ্রধান বিজয়ের জন্যও এটিই ছিল প্রথম নির্বাচনি লড়াই।
দলটির বিধায়কদের গড় বয়স মাত্র ৪৫ বছর। সবচেয়ে কম বয়সী বিধায়কের বয়স মাত্র ২৮ বছর। ৪০ বছরের নিচে বিধায়ক আছেন ৪১ জন, আর ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক নেতার সংখ্যা মাত্র ১০।
আরও পড়ুন>>
ছোট দলের বড় ‘দাম’/ দরকষাকষিতে ঝুলে আছে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্ব
অবশেষে নাটকীয়তার অবসান, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথগ্রহণ আজ, থাকবেন রাহুল গান্ধীও
তরুণ প্রজন্মের এই জয়জয়কার নিয়ে দলের এক তরুণ নেতা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘টিভিকে একটি নতুন দল এবং এখানে তরুণরা প্রকৃত অর্থে সুযোগ পেয়েছে। অন্যান্য দলে প্রবীণদেরই প্রাধান্য থাকে, কিন্তু বিজয় তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন।’ মূলত বিজয়ের বিশাল তরুণ ভক্তকুলের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে অভিজ্ঞতার অভাব মেটাতে অন্যান্য দল থেকে আসা কিছু অভিজ্ঞ নেতাকেও এবার বিজয়ের পাশে দেখা গেছে। বিজয়ের দলে এমন আটজন বিধায়ক রয়েছেন যারা অতীতেও বিধানসভার সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে এআইএডিএমকের সাবেক মন্ত্রী এবং প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান অন্যতম। এ ছাড়া সাবেক ডিএমকে নেতা ভি এস বাবু এবার কোলথুর আসনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনকে পরাজিত করে চমক দেখিয়েছেন। অভিজ্ঞদের তালিকায় আরও আছেন সাবেক এআইএডিএমকে মন্ত্রী এন সুব্রামানিয়ান, পুদুচেরির সাবেক বিধায়ক ও টিভিকে সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দ এবং জে সি ডি প্রভাকর।
বিধায়কদের পেশাগত বৈচিত্র্যেও রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, ৪৬ জন বিধায়ক ব্যবসায়ী এবং ১৯ জন আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত। দলটিতে নয়জন চিকিৎসক ও আটজন আইনজীবী রয়েছেন। বিনোদন জগত থেকে আসা বিধায়কের সংখ্যা সাত।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ৬৩ শতাংশ বা ৬৭ জন বিধায়ক স্নাতক ডিগ্রিধারী। বিজয়সহ ১৫ জন বিধায়ক উচ্চমাধ্যমিক এবং ২৪ জন মাধ্যমিক বা তার নিচের স্তরের শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তবে ১০৭ জনের মধ্যে ৪০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে অন্তত একটি করে ফৌজদারি মামলা ঝুলে আছে, বাকি ৬৭ জনের রেকর্ড পুরোপুরি স্বচ্ছ।
রোববার সকালে চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে রাজকীয় এই শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/