বিজয়-রাহুলের বন্ধুত্ব গড়ে উঠল যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ১০ মে ২০২৬
রাহুল গান্ধী ও বিজয়/ ছবি: ইউটিউব@রাহুল গান্ধী

চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে রোববার (১০ মে) যখন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সি জোসেফ বিজয় শপথ নিচ্ছিলেন, তখন সামনের সারিতে বসা অতিথিদের মধ্যে সবার নজর কেড়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বিজয় ও রাহুলের এই রাজনৈতিক রসায়ন ও ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক বড় পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই বন্ধুত্ব নতুন মনে হলেও, এর শেকড় বেশ গভীরে।

ঠিক ১৭ বছর আগে, ২০০৯ সালে বিজয় রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আজ রূপালি পর্দার গল্পের মতো এক নাটকীয় মোড়ে এসে সেই কংগ্রেসই বিজয়ের বিশাল রাজনৈতিক সমীকরণে একটি অন্যতম ছোট মিত্র দল হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিজয় সম্প্রতি তার নবগঠিত জোটের নেতাদের এক ঘরোয়া সভায় আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘যখন কঠিন সময়ে কেউ আমার ওপর বিশ্বাস রাখেনি, তখন রাহুল গান্ধী, প্রবীণ চক্রবর্তী এবং কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতা আমার সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা বিশ্বাস করেছিলেন, আমি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পটভূমি বদলে দিতে পারি।’

আরও পড়ুন>>
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন বিজয়

বিজয়ের দলে ৯৩ বিধায়কই নতুন মুখ, রয়েছেন ২৮ বছর বয়সীও
ছোট দলের বড় ‘দাম’/ দরকষাকষিতে ঝুলে আছে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্ব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের জন্য কংগ্রেস একটি স্বাভাবিক মিত্র ছিল। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর জন্য এই বন্ধুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত্তি এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। রাহুল গান্ধী মনে করেন, দক্ষিণ ভারতে বিজয় এমন একজন ধর্মনিরপেক্ষ নেতা হতে পারেন, যাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা যায়। দক্ষিণের অন্য অনেক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও তাদের ওপর রাহুল পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না বলে গুঞ্জন রয়েছে।

নির্বাচনে বিজয়ের বিপুল জয়ের পর রাহুল গান্ধী অন্তত তিনবার তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কংগ্রেস ও টিভিকে যখন সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বিজয় রাহুল গান্ধীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। রাহুলও কথা দিয়েছিলেন তিনি আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং আজ সশরীরে হাজির হয়ে সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ দিলেন।

এই বন্ধুত্বের খাতিরেই রাহুল গান্ধী নির্বাচনি প্রচারণার সময় তার দীর্ঘদিনের ‘বন্ধু’ ডিএমকের ডাকা বেশ কিছু সভায় অংশ নেননি। আপাতত তামিলনাড়ু রাজ্যে ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। তবে পি চিদাম্বরমের মতো অনেক কংগ্রেস নেতা আশা প্রকাশ করেছেন, রাজ্যে দূরত্ব বাড়লেও জাতীয় রাজনীতিতে উভয় দলই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।