মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথগ্রহণ আজ, থাকবেন রাহুল গান্ধীও
চারদিনের তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সরকার গঠনের পথে তামিলনাড়ু। রোববার (১০ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তামিলাগা ভেট্টরি কাঝাগাম (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয়। বিনোদন জগত থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা এই নেতার হাত ধরেই ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার কোনো অ-দ্রাবিড় (ডিএমকে বা এআইএডিএমকে বহির্ভূত) মুখ্যমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে রাজ্যটি।
বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালেই চেন্নাই পৌঁছেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কংগ্রেসই প্রথম দল হিসেবে বিজয়কে সমর্থন জানিয়েছিল।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন। বর্তমানে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বিজয়ের পক্ষে। গত শনিবার ভিলুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার পর তার সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়। এর আগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (৫ জন বিধায়ক), সিপিআই (২ জন বিধায়ক) এবং সিপিআইএম (২ জন বিধায়ক) বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে’কে সমর্থনের চিঠি দেয়। তবে এই দলগুলো বর্তমানে সরকারে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন>>
ছোট দলের বড় ‘দাম’/ দরকষাকষিতে ঝুলে আছে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্ব
সরকার গঠন করতে কংগ্রেসের সাহায্য চান থালাপতি বিজয়
অবশেষে নাটকীয়তার অবসান, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়
এর আগে, শনিবার রাজভবনে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। এ সময় তিনি তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বপক্ষে বিভিন্ন দলের সমর্থনপত্র জমা দেন। রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সি জোসেফ বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে এবং আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোট সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল।
রাজনীতির নাটকীয় মোড়
গত চারদিনে চারবার রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজয়। শুরুতে সংখ্যার হিসাবে সন্তুষ্ট না হলেও শেষ পর্যন্ত জোটসঙ্গীদের সংহতি নিয়ে রাজভবনে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান এবং আধভ অর্জুনা। এবারের নির্বাচনে ডিএমকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে কংগ্রেস টিভিকে’কে সমর্থন জানানোয় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়।
৫১ বছর বয়সী এই নেতার জন্য আজকের দিনটি বড় চ্যালেঞ্জের। শপথগ্রহণের পর আগামী বুধবারের (১৩ মে) মধ্যে তাকে বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার অগণিত ভক্ত ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেএএ/