কলকাতাতেও শুরু হলো ‘বুলডোজার অভিযান’, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চামড়ার কারখানা

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৪ পিএম, ১৪ মে ২০২৬
বুধবার (১৩ মে) কলকাতার তপসিয়ার তিলজলা এলাকায় একটি চামড়ার কারখানা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের আদলে ‘বুলডোজার অভিযান’ দেখা গেলো। রাজ্যের রাজধানী কলকাতার তপসিয়ার তিলজলা এলাকায় একটি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলে ভবনটিকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কারখানা ও নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার নির্দেশের পরই বুধবার (১৩ মে) অবৈধ স্থাপনা ভাঙতে সরাসরি নামানো হয় বুলডোজার।

জানা গেছে, তিলজলার ওই চামড়ার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আগুনে ঝলসে যাওয়া আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর তিলজলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চারটি দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট জমা দেন।

সেই রিপোর্টে উঠে আসে, বহুতল কারখানাটির কোনো অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। এমনকি, সেখানে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও ছিল না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই পরিস্থিতিকে ‘অশনি সংকেত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে কারখানা চালানো হচ্ছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, তপসিয়ার তিলজলার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তা রাজ্যের জন্য বড় সতর্কবার্তা। শুধু তিলজলা নয়, কলকাতার ইকবালপুর, মোমিনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা অবৈধ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ অডিট চালানো হবে। যেসব কারখানার বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান নেই, তাদের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, একদিনের মধ্যেই ওই অবৈধ কারখানা ভেঙে ফেলার জন্য পৌর ও নগর উন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা করপোরেশন, কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বুলডোজার। এরপর শুরু হয় অবৈধ স্থাপনা ভাঙার অভিযান।

ডিডি/এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।