শিশুখাদ্যে বিষ মেশানোর হুমকির তদন্ত শুরু নিউ জিল্যান্ডে
নিউ জিল্যান্ডে কীটনাশক হিসেবে বিষাক্ত টোপ ব্যবহার বন্ধের দাবিতে শিশুখাদ্যে বিষ মেশানোর হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। হুমকির নমুনা হিসেবে গুঁড়ো দুধে কীটনাশক মিশিয়ে বিশ্বের ডেইরি পণ্য রপ্তানীকারক সবচেয়ে বড় কোম্পানি ফনটেরার কাছে একটি প্যাকেটও পাঠোনো হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানায়।
তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন কি এই হুমকিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে শিশুর বাবা-মায়েদের আশ্বস্ত করেছেন যে শিশুদের খাবার দুধ সম্পূর্ণ নিরাপদ।
গত একমাসে ফনটেরা এবং সেদেশের কৃষি অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেটেড ফারমারস বেশ ক’টি হুমকি পেয়েছে যার সাথে একইরকম প্যাকেটে শিশুদের দুধে বিপজ্জনক ঘণত্বের কীটনাশক টেন-এইটি মেশানো ছিল। দেশটির শস্য সংরক্ষণ বিভাগ এই বিশেষ কীটনাশকটি ইঁদুর এবং শস্যের জন্য ক্ষতিকর আরেকটি ক্ষুদ্র প্রাণী পজাম তাড়ানোয় ব্যবহার করে আসছে।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মাইক ক্লেমেন্ট বলেন, হুমকিদাতা মার্চ মাসের মধ্যেই এই টেন-এইটি ব্যবহার নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে। এই কীটনাশকটি ৮০ শতাংশ ঘণত্বে নিউ জিল্যান্ডে কৃষিখাতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বহু প্রাণিঅধিকার সংস্থা এর বিরুদ্ধে বলে আসছে দীর্ঘদিন। কারণ, এই কীটনাশক প্রাণীর ধীর যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটায়।
সরকার স্বীকার না করলেও এরইমধ্যে দেশটির জনগণের মধ্যে শিশুখাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ফনটেরাও।
এর আগেও ২০১৩তে দুধ থেকে তৈরি প্রোটিন প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে নোংরা পাইপ ব্যবহারের কারণে ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিল ফনটেরা। কিন্তু এবার শিশুখাদ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তারা বেশ বড় রকমের সমালোচনার মুখে পড়লো।
যদিও সরকার এবং ফনটেরার তরফে বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানানো হয়েছে, শিশুখাদ্যে কোনো বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়নি এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
তবে দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করেছে, হুমকিদাতা চাপ সৃষ্টি করছে, এ মাসের মধ্যেই টেন-এইটি ব্যবহার বন্ধ না করলে অচিরেই তা শিশুখাদ্যে পাওয়া যাবে।
হুমকিদাতাকে ধরতে অভিযান শুরু হলেও এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এসআরজে