ঢাকায় মোদির বক্তব্যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা


প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ১০ জুন ২০১৫

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন পুরনো। এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত এবং পাকিস্তান সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে বহুবার। এবার সেই টানাপোড়েনের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্যে। সফরের শেষ দিনে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে যে মন্তব্য করেছেন, তাতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান সরকার।

ইতোমধ্যেই নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান সরকার জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার বাতাস বইতে শুরু করেছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তেহরিক-ই-ইনসাফ পাকিস্তানের চেয়ারম্যান ও সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান। বুধবার এক টুইট বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

বাকযুদ্ধ চলতে থাকলে উত্তেজনার চলমান বাতাস ঝড়ো হাওয়ায় রূপ নিতে পারে, এমনটিই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. এম শাহীদুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে দেখেছি বহুবার। দু’দেশের সম্পর্কের ইতিহাস থেকে বলা যায়, এভাবে বাকযুদ্ধ চলতে থাকলে তা বড় কোনো ঘটনার দিকে মোড় নিতেই পারে।’

গত ৭ জুন অর্থাৎ বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট আয়োজিত অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে মোদি পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সর্বক্ষণ ভারতকে বিরক্ত করছে, যন্ত্রণা সৃষ্টি করছে... (পাকিস্তান) সন্ত্রাসকে মদদ দিচ্ছে...একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ঘটছে।’

একই দিনে মোদি বঙ্গভবনে বিজেপি নেতা ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা স্মারক গ্রহণের সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান নিয়ে কথা বলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বক্তব্য রাখেন।

এদিকে পাকিস্তানকে নিয়ে করা মোদির বক্তব্যের প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি করেছেন।

মোদির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সারতাজ আজিজ বুধবার বলেন, ‘পাকিস্তান তার প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সবসময় ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতির জোরালো বন্ধন রয়েছে। ভারত সে সম্পর্কের মধ্যে বিরোধের বীজ বুনতে  চেষ্টা করছে।’

নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের দেয়া প্রতিক্রিয়ায় দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বাঙালির ওপর যে নির্যাতন করেছে, তা তো বিশ্ব ইতিহাসে প্রমাণিত। ওই নির্যাতনের কথা পাকিস্তান কখনই অস্বীকার করতে পারবে না। খোদ পাকিস্তানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। এমন সময় মোদির বক্তব্য নিয়ে যখন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, তখন বিষয়টি শুধু  ‘১৯৭১’ বা ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এমন দৃষ্টি আকর্ষণ মানে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনায় পাকিস্তানের ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি ভারত-পাকিস্তান মধ্যকার তীক্ত সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়।’

মোদির বক্তব্য প্রসঙ্গে এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা সফরে পাকিস্তানকে উপলক্ষ করে দেয়া নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যটিও অপ্রাসঙ্গিক। নরেন্দ্র মোদির সফর ছিল মূলত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে। সফরে দু’দেশের বাণিজ্য এবং যোগাযোগের বিষয়টিই গুরুত্ব পাওয়ার কথা। পাকিস্তানের প্রসঙ্গটি না আসলেও চলত।’

অন্যদিকে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের ওপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর চালানো হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে ভারত যে বক্তব্য দিয়েছে, বুধবার তার কড়া সমালোচনা করে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী হুমকিস্বরূপ বলেছেন, ‘পাকিস্তান মায়ানমার নয়।’ এর আগে ভারত সরকারের এক মন্ত্রী বলেছিলেন,‘সন্ত্রাসবাদকে মদদ দিলে প্রয়োজনে পাকিস্তানে ঢুকে অভিযান চালানো হবে।’

গত বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর-পূর্বের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্রোহীদের হামলায় ১৮ সৈন্য নিহত হওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই হামলা চালায়।

## মোদিকে চুপ থাকতে বললেন ইমরান খান

## ভারতকে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুমকি

## মোদির বক্তব্য নিয়ে জাতিসংঘে নালিশ পাকিস্তানের

এএসএস/একে/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।