দুর্নীতির অভিযোগে চীনা নিরাপত্তা প্রধানের আমৃত্যু কারাদণ্ড
দুর্নীতির অভিযোগে চীনের সাবেক নিরাপত্তা প্রধান ঝো ইয়ংক্যাংকে (৭২) আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে তকে এ সাজা দেয়া হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, ঝো ইয়ংক্যাংকে দেশটির উত্তরের তিয়ানজিন সিটিতে এক রুদ্ধদ্বার ট্রায়ালে হাজির করা হয়। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো আপিল করবেন না বলে জানিয়ে দেন। গত ২২ মে থেকে তার বিচার কাজ শুরু হয় ওই আদালতে। এ সময় টেলিভিশনের খবরে বলতে শোনা যায়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে চীন আইনের শাসনের চর্চা করছে এবং দল দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করছে।
সাবেক এ প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে ট্রায়ালে অনুশোচনা করতে দেখা গেছে। তিনি বিচারককে বলেন, আমার কারণে দল ও জনগণের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমি অপরাধী এবং নিজের দোষ স্বীকার করছি। তিনি আদালতের রায়কে যুক্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ বলেও মেনে নেন।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ঝৌর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর কোনো শীর্ষ নেতা এই প্রথম ঘুষ কেলেংকারিতে দণ্ডিত হলেন।
১৯৪২ সালে চীনের জিয়াংসু প্রদেশে জন্ম নেন ঝো ইয়ংক্যাং। ১৯৬৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। পরবর্তী ৩২ বছর তিনি ছিলেন দেশটির তেল সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। তিনি ১৯৯৯ সালে সিচুয়ান প্রদেশের পার্টি সেক্রেটারি হন। ২০০২ সালে পলিটব্যুরো সদস্য মনোনিত হন। ওই বছরে তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০০৭ সালে পলিটব্যুরোর স্টান্ডিং কমিটির মেম্বার হন। ২০১২ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং পরের বছর তার ছেলে দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়।
এএইচ/এমএস