শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত মিয়ানমার : সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৫ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চি বলেছেন, গত মাসে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে তার সরকার। রাখাইনের রোহিঙ্গা সঙ্কট ঘিরে সু চির দীর্ঘ নীরবতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনার পর মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন সুচি।

এ সময় তিনি বলেন, মিয়ানমার সব সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। মিয়ানমারের এই নেত্রী বলেন, আমরা সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি সহিংসতার নিন্দা জানাই।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া বিরল এক টেলিভিশন ভাষণে সু চি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন পুনঃস্থাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর অন্তত ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশের ৩০টি ও সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলায় ১২ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধনের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে জাতির উদ্দেশ্যে বিরল এক ভাষণ দিলেন সু চি। ভাষণে সু চি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযান পরিচালনার সময় আইনের কঠোর অনুশীলনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দোষ ও বেসামরিকরা যাতে এই অভিযানে ক্ষয়ক্ষতির শিকার না সেজন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে সংযত থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়।

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির এই নেত্রী বলেন, যারা পালিয়ে গেছে তাদেরকে ফেরত নিতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত আছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারকে ধর্মীয় বিশ্বাস বা জাতিগত বিভক্ত একটি দেশ হতে দিতে চাই না।

সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন সু চি। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরণার্থীদের যেকোনো সময় ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত আছে তার দেশ।

তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৪ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে ঠিক কতজন ফেরত যাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

সূত্র : ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি।

এসআইএস/আরআইপি


টাইমলাইন