বিশ্বের নজর পোপ-সু চির বৈঠকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১২ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতায় উত্তপ্ত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। রোহিঙ্গা সঙ্কটের মাঝে দেশটিতে সু চির সঙ্গে পোপের মঙ্গলবারের এই বৈঠকের দিকে নজর রাখছে পুরো বিশ্ব। এর আগে সোমবার চারদিনের সফরে মিয়ানমারে পৌঁছে দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন পোপ।

মিয়ানমার সফরের আগে ভ্যাটিকানে এক প্রার্থনায় রোহিঙ্গাদের জন্য প্রার্থনার আয়োজন করেছিলেন পোপ। সেসময় তিনি রোহিঙ্গাদের ভাই-বোন বলে সম্বোধন করলেও সফরে আসার আগেই পোপকে মিয়ানমারের আর্চ বিশপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সু চির সঙ্গে আলোচনার পর দেশটির রাজধানী নেইপিদোতে কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেবেন পোপ। রোহিঙ্গা সঙ্কটে সরাসরি দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লেইংয়ের সঙ্গে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ করেন। দেশটির এই সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযান চলছে। জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে শনাক্ত করেছে।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাখাইনে ব্যাপক পরিসরে নৃশংসতার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন জেনারেল হ্লেইং। গত আগস্টের শেষের দিকে শুরু হওয়া সেনা অভিযানে ৬ লাখ ২২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

সেনাপ্রধানের অফিস বলছে, জেনারেল মিন অং হ্লেইং পোপকে বলেছেন, রাখাইনে কোনো ধরনের বৈষম্য নেই। দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে কাজ করছে সেনাবাহিনী। রাখাইন সঙ্কটের শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের অধিকারের ব্যাপারে কথা বলে আসছেন পোপ। ‘রোহিঙ্গা ভাই-বোন’দের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তবে পোপের এই সফর ঘিরে শঙ্কাও দেখা দিয়েছে দেশটিতে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটিকে ব্যবহার করা হয় না। এমনকি পোপকেও এই শব্দ উচ্চারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সেদেশের নাগরিকত্ব দেয়নি। বাংলাদেশ থেকে সেখানে যাওয়া অবৈধ বাঙালি অভিবাসী হিসেবে দেখা হয় তাদের।

মিয়ানমারের বুকে পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন কি না সেদিকে এখন গভীর নজর রাখছেন দেশটির কর্মকর্তারা। পোপের রোহিঙ্গা শব্দটি ঘিরে কট্টর বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের সহিংসতার ঝুঁকি রয়েছে দেশটিতে।

চারদিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সকালের দিকে ইয়াঙ্গুনে আন্তঃধর্মীয় এক সম্মেলনে অংশ নেবেন পোপ। এই সম্মেলনে বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নেইপিদো ত্যাগ করেন ক্যাথলিক এই ধর্মগুরু।

সূত্র : এএফপি।

এসআইএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :