‘পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস গণতন্ত্রের ওপর হামলায় পরিপূর্ণ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৪২ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
‘পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস গণতন্ত্রের ওপর হামলায় পরিপূর্ণ’

পাকিস্তানের তিনবারের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস গণতন্তের ওপর হামলায় পরিপূর্ণ। শুক্রবার পাকিস্তানের করাচিতে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আয়োজকদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পর কেন এখনো এই বিষয়টি নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করতে হবে।

নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘সব সময় গণতন্ত্র তার নিজ পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু এর ওপর আঘাত এসেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতায় পৌঁছাতে গত ৭০ বছর ধরে বাধা দিয়েছে অপশক্তি; যা আজও আমাদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে।’

তিনি ১৯৫৩ সালের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তার জায়গায় মুহাম্মদ আলী বগুড়া দায়িত্ব পান। নওয়াজের অভিযোগ, ‘তখন থেকেই প্রধানমন্ত্রীদের খেলনার মতো বিবেচনা করা হয়।’

‘তবে এটি আরো অত্যন্ত দুঃখজনক যে যখন গণতন্ত্রের ওপর আঘাত আসে তখন বিচারবিভাগের কিছু অংশ দেশের জনগণ, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে স্বৈরশাসকদের সমর্থন দেয়।’

পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় মতবাদকে সমর্থন করছে এবং বিচার বিভাগের কয়েকটি বিভাগ সামরিক আইনের বৈধতা দেয়ার জন্য এই তত্ত্ব ব্যবহার করেছে।’

১৯৫৬ সালের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ওই সময় প্রথম সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন ও ১৯৫৮ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই সময় মার্শাল ল জারি করে সেই প্রক্রিয়াকে বাতিল করা হয়।

নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘সংবিধান বাতিল করা হয়েছিল। পরে এ বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বিচারবিভাগ কৌশলী মতবাদকে সমর্থন জানিয়ে মার্শাল ল’য়ের বৈধতা দেয়।’

‘১৯৯৯ সালে যখন আমাদের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং মার্শাল ল জারি করা হয়, তখন একজন বিচারক বলেছিলেন, একটি মহৎ কাজ করা হলো।’

‘তারা (বিচার বিভাগ) (মুশাররফকে) বলেছিলেন, ‘আমরা আপনাকে তিন বছরের বৈধতা দিচ্ছি, সংবিধানে যা যা করতে চান তাই করেন।’

অতীতে দেশটির বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদচ্যুত হয়েছেন। নওয়াজ শরীফ সেসব ঘটনাও স্মরণ করেন সেমিনারে। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ জানেন, আমার সঙ্গে কী করা হয়েছে, বেলুচিস্তানে কী করা হয়েছে এবং কীভাবে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

পানামা পেপারর্স কেলেঙ্কারির জেরে গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে ক্ষমতায় থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে। চলতি মাসের শুরুতে বেলুচিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রী নওয়াব সানাউল্লাহ জেহরির সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘স্বৈরশাসকরা গণতন্ত্র ধ্বংস করছে, তবে আমাদের তিক্ত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আমি বলতে চাই যে, এই দেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’

সূত্র : ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

এসআইএস/পিআর