ভবিষ্যতের নমুনা জাপানি হোটেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪২ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০১:৫৯ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জাপানে বিশ্বের সবচেয়ে স্মার্ট টয়লেট ছিলই। এবার যুক্ত হয়েছে স্মার্ট জুতা ও ফার্নিচার। আনুষঙ্গিক আরও কিছু জিনিসও রয়েছে নতুন যুক্ত হওয়া স্মার্টের তালিকায়।

২০১৬ সালে জাপানি কারনির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিসান ‘সেল্ফ-ড্রাইভিং চেয়ার’ দেখিয়েছিল; যে চেয়ারগুলো স্বয়ংক্রিভাবে নড়াচড়া করতে পারত।

আর এবার প্রতিষ্ঠানটি নজর দিয়েছে অতিথি আপ্যায়ন বা প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োজনীয় এমন জিনিসপত্রের দিকে।

তারই নমুনা সম্প্রতি দেখা গেছে জাপানের একটি গেস্টহাউজে। তবে দুঃখজনক হলো এটা দীর্ঘস্থায়ী কোনো হোটেল নয়। একটি প্রকল্পের অংশ এটি। মার্চের ২৪ তারিখে মাত্র এক রাতের জন্য খোলা থাকবে হোটেলটি। একটি প্রতিযোগিতীয় বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে ওই হোটেলে থাকার ও স্বয়ংক্রিয় সব সুযোগ-সুবিধার অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

জাপানের ঐতিহ্যবাহী কোনো গেস্টহাউজে থাকার অভিজ্ঞতাটা সবসময়ই একটা আলাদা মাত্রার। এগুলোতে জাপানি ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকলেও স্মার্ট টয়লেট, রোবট বা সেন্সরের সঙ্গে এসব গেস্টহাউজের সম্পর্ক থাকে না।

jagonews24

কিন্তু ব্যতিক্রম টোকিও থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর হাকোনের প্রোপাইলট পার্ক রিউকান। এ গেস্টহাউজটিতে রয়েছে স্মার্ট স্যান্ডেল, স্মার্ট ফার্নিচার। দেখে মনে হবে এগুলো যেন নিজের ইচ্ছাতেই নড়াচড়া করছে।

জাপানে ঐতিহ্য রয়েছে কোনো বাসায় বা মন্দিরে ঢুকতে গেলে জুতা খুলে ঢুকতে হয়। সে অনুযায়ী গেস্টহাউজে ঢুকতেই হলরুমেই পাওয়া যাবে স্মার্ট স্যান্ডেল।

এরপর রুমে অপেক্ষা করছে আরও বিস্ময়। সেখানে রয়েছে স্মার্ট ফার্নিচার, ফ্লোর কুশনসহ আরও বেশ কিছু জিনিসপত্র।

কিভাবে কাজ করে?
স্যান্ডেল-ফার্নিচারের একা একা নড়াচড়া দেখে মনে হতে পারে সব যেন কোনো যাদুর কেরামতিতে হচ্ছে। তাবে আসলে এসব সম্ভব হচ্ছে নিসানের অটোনোমান পার্কি টেকনোলজির বদৌলতে।

নিক ম্যাক্সফিল্ড নামে নিসানের এক মুখপাত্র বলছেন, গাড়ির জন্য প্রচুর প্রক্রিয়াকরণ শক্তি প্রয়োজন হয়। কার পার্কিংয়ের জন্য দরকার হয়- চারটি হাই-রেজ্যুলেশন ক্যামেরা; যেগুলো রিয়েল টাইম ইমেজ প্রসেস করতে সক্ষম এবং ১২টি সোনার সেন্সর। এগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য প্রসেসিং করে সিস্টেম তারপর গাড়ির অ্যাক্সিলেটর, ব্রেক, স্টিয়ারিং ও ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ করে গাড়িটি নিরাপদে পার্ক করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অবশ্যই, এই প্রযুক্তি স্যান্ডেল ও কয়েকটা বালিশের উপর প্রয়োগ করা অনেক সহজ।

এ প্রযুক্তিতে প্রত্যেকটা জিনিসের একটা ‘স্টার্ট’ বা ‘হোম’ পজিশন আছে। একটা বোতাম চাপতেই যেগুলো চালু হয়।

এ ছাড়া রুমের ভেতর ও অভ্যর্থনা কক্ষের ছাদে রয়েছে ক্যামেরা। ম্যাক্সফিল্ড বলছেন, ইমেজ-প্রসেসিং টেকনোলজি ব্যবহার করে ক্যামেরাগুলো মেঝেতে থাকা কোনো বস্তুকে চিনে নয়।

এ হোটেল যে স্বয়ংক্রিয় স্যান্ডেলগুলো রয়েছে সেগুলোর নিচে দুটি ছোট্ট চাকাও রয়েছে। এ চাকার সাহায্যে স্যান্ডেলগুলো যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেবল চলাফেরা করে তাই-ই নয়, স্যান্ডেলগুলো কেউ পায়ে পরলে চাকাগুলো নিজে থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

সূত্র: সিএনএন।

এনএফ/আরআইপি