নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে স্থায়ী সদস্যপদ দেয়ার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২০ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে স্থায়ী সদস্যপদ দেয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

এসময় তিনি ভারতকে ‘জাতিগত জীবন্ত জাদুঘর’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছেন।’

রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেয়া বক্তৃতায় ইরানের এই প্রেসিডেন্ট বলেন,‘একশ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ভারত কেন নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেয়ার অধিকার পাবে না এবং কেন যুক্তরাষ্ট্র এই অধিকার ভোগ করে?’

রুহানি প্রশ্ন তুলে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কেন শুধুমাত্র শক্তিশালী পাঁচটি দেশ ভেটো দেয়ার ক্ষমতা পাবে; যাদের পারমাণবিক বোমা রয়েছে। তিনি অতীতে ইরানি জনগণের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিরস্কার করেন।

রুহানি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আমাদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ ছিল। তারা আমাদের অর্থনীতি, আমাদের সংস্কৃতির জন্য সিদ্ধান্ত নিতো। এমনকি আমাদের নিজস্ব কোনো শিক্ষামূলক টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। আমাদের সব সামরিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছিল।’

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের চাবাহার বন্দরের উন্নয়নসহ দুই দেশের মাঝে ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এসব মন্তব্য করেন।

রুহানি তার বক্তৃতায় বলেন, ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে সব ধর্মের ও জাতির মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। ভারত এবং ইরানের হৃদ্যতাপূর্ণ এ সম্পর্ক ব্যবসা এবং বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতি ঐতিহ্য প্রায় একই ধরনের উল্লেখ করে হাসান রুহানি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মাঝে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের এবং আপনাদের শিল্পী, প্রকৌশলী, গণিতবিদ এবং সাহিত্যিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, আমাদের সম্পর্কের ইতিহাস অপরিবর্তিত রয়েছে; যা ভবিষ্যতে আমাদের বন্ধুত্ব ও সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।’

বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে ইরানের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা কার্যকর উপায়ে মোকাবেলায় ইরান এবং ভারতের অবস্থান অভিন্ন।’ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

‘সংস্কৃতি, তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবেলায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

সূত্র : দ্য কাশ্মির মনিটর।

এসআইএস/পিআর