মিয়ানমারে প্রবেশে ব্রিটিশ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০১ মার্চ ২০১৮

রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঘটনায় ব্রিটিশ সরকারের গঠিত একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যদের মিয়ানমারে প্রবেশে বাধা দিয়েছে সু চি নেতৃত্বাধীন দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার। রোহিঙ্গা সঙ্কটে ব্রিটিশ এমপিরা মিয়ানমারের ভূমিকার সমালোচনা করার পর ব্রিটেনের কমন ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কমিটির সদস্যদের প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

rohingya

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি, সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ দেশটির বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ব্রিটেনের ‘কমন ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কমিটি’র সদস্যদের। এছাড়া মিয়ানমারে ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা ছিল এই কমিটির।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়নের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কমন ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কমিটি। এতে গত আগস্টে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌন সহিংসতার তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কঠোর ওই অভিযানে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

rohingya

মিয়ানমার দূতাবাস ব্রিটিশ সরকারের ওই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যদের জন্য ভিসার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ ও নিন্দা জানানোর কারণেই দূতাবাস কমিটির সদস্যদের জন্য ভিসার ব্যবস্থা করেনি বলে অভিযোগ করেছে কমিটি।

চরম হতাশা প্রকাশ করে কমিটির চেয়ারম্যান ও লেবার দলীয় এমপি স্টিফেন টুইগ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কটে কমিটির প্রতিবেদনের কারণেই এটার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে। আর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন নয়।’

টুইগ আরো বলেন, কমিটির সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি না দেয়ায় মিয়ানমারে ব্রিটেন সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির একশ মিলিয়ন ইউরোর যে প্রকল্প আছে তার পর্যালোচনাও ব্যাহত হচ্ছে।

rohingya

মিয়ানমারের রাখাইন ও মগওয়ে প্রদেশে ব্রিটিশ সরকারের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবিষয়ক বেশ কিছু প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল কমিটির সদস্যদের।

জানুয়ারির শুরুর দিকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি। মিয়ানমার সরকারের কারণেই ‘ব্যাপক মানবিক ট্র্যাজেডি’ তৈরি হয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ সরকারের এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।

rohingya

সুরক্ষার নিশ্চয়তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের যে কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন ব্রিটিশ এমপিরা। একই সঙ্গে শরণার্থীদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

গত জানুয়ারির শেষের দিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যবাসন প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সরকার একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে মাঠ পর্যায়ের কিছু কাজ বাকি থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জানুয়ারিতে আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে, গতকালও (বুধবার) দুই দেশের সীমান্তরেখায় আটকা পড়া শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এই রোহিঙ্গারা বলছেন, শূন্য রেখা ত্যাগ করতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের হুমকি দিয়েছে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।

এসআইএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।