কলকাতায় জাল পাসপোর্ট চক্র : দুই বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৯

মনিকা সাহা
মনিকা সাহা , কলকাতা প্রতিনিধি কলকাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৮
কলকাতায় জাল পাসপোর্ট চক্র : দুই বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৯

ভারতের কলকাতায় জাল পাসপোর্ট চক্রের হদিস পেয়েছে দেশটির পুলিশ। এতে জড়িত সন্দেহে সোমবার রাতে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা ও বর্ধমান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কলকাতার ৯২/৪ এসএন ব্যানার্জি রোডে পাসপোর্ট ও ভিসার অফিস খুলেছিল কার্তিক নস্কর নামে এক ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে এই চক্রটি শেঙ্গেন ভিসা (টুরিস্ট ভিসা) করিয়ে ইউরোপে পাঠাচ্ছিল বেকার যুবক-যুবতীদের।

সম্প্রতি দেশটির গোয়ন্দোরা জানতে পারেন, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আসা বহু যুবক যাচ্ছে ইউরােপের বিভিন্ন দেশে, আর তাদের সাহায্য করছে এই সংস্থা। শুরু হয় গোয়েন্দাদের নজরদারি। জানা যায়, বেশকিছু বাংলাদেশি যুবক টুরিস্ট ভিসা নিয়ে কলকাতায় আসে। তারপর কার্তিকদের মাধ্যমে চলে যায় ইউরোপে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাতে অভিযান চালায়। পুলিশের একটি টিম যায় বর্ধমানের কেতুগ্রামে। ওখান থেকে গ্রেফতার করা হয় এই চক্রের পান্ডা শেখ জাহাঙ্গীরকে। তারপর আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর কলকাতার রিপন স্ট্রিট থেকে গ্রেফতার করা হয় মুহম্মদ নাসিরুল্লাহ, সঞ্জয় প্রসাদ, শেখ সফিকুল্লাহ ও ওয়াসিমকে। মালিক হোসেন এবং মাহিরুদ্দিন মোল্লা নামে দুই বাংলাদেশি যুবককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাসপোর্ট ও ভিসার ওই ভুয়া অফিসে পুলিশ হানা দিয়ে উদ্ধার করেছে বেশকিছু জাল নথি ও বাংলাদেশি টাকা।

দেশটির পুলিশ বলছে- বাংলাদেশি যুবকরা গােয়েন্দাদের জানিয়েছে, তারা চাকরির জন্য ইউরােপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন কিন্তু দেশ থেকে তারা কোনোভাবেই ভিসা পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়েই তারা জাল কাগজপত্র নিয়ে কলকাতা থেকে বিদেশ যাচ্ছেন। কলকাতা হয়ে বাংলাদেশিদের ইউরােপে যাওয়ার পেছনে অন্য কােনো কারণ রয়েছে কি না গােয়ন্দোরা তাও জানার চেষ্টা করছে।পাশাপাশি এই চক্রটি কতজন বাংলাদেশিকে ইউরােপে পাঠিয়েছে তাও জানার চেষ্টা চলছে গোয়েন্দাদের।

বিদেশে যাওয়ার পর তারা কী কাজ করছে তাও জানতে চায় পুলিশ। জাল নথি দিয়ে বিদেশে জঙ্গিদের পাচার করা হচ্ছিল কি না, এই চক্রের কেতুগ্রাম যোগের প্রমাণ পেয়ে সেই সন্দেহ পুলিশ উড়িয়ে দিচ্ছে না। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জেডএ/এমএস