ফিলিস্তিনি হত্যা, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রশংসায় নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৪:২৮ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮

গাজা উপত্যকায় ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। ৪২তম ভূমি দিবসে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা থেকে ইসরায়েলের সীমান্তের দিকে মিছিল করে যাওয়ার পর তাদের ওপর ইসরায়েলি সৈন্যরা গুলি চালায়। ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান অত্যাচারে বিশ্ব নেতাদের অব্যাহত নিন্দার মধ্যেই এক টুইট বার্তায় ইসরায়েলি সেনাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

নিজেদের সীমান্তের সুরক্ষায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। শনিবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু তার সেনাদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের নাগরিকদের শান্তিতে ছুটি উদযাপনে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের সেনারা অনেক ভালো কাজ করেছেন।

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বিক্ষোভে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস একদিনের শোক ঘোষণা করায় শনিবার সব স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

ফিলিস্তিনিরা ভূমি দিবসে গ্রেট মার্চ টু রিটার্ন বা নিজের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার মিছিল করেছে। সীমান্তের কাছে তারা পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করে সেখানে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের ভেতরে তাদের ফেলে আসা বাড়ি-ঘরে ফিরে যাওয়ার অধিকার চেয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, গাজা-ইসরায়েল সীমান্তের কাছে পাঁচটি জায়গায় প্রায় সতের হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছে। এরা সেখানে গাড়ির টায়ার জ্বালাচ্ছে এবং সীমান্তের প্রাচীরের দিকে মলোটভ ককটেল ছুঁড়ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাদের হাতে নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোরও রয়েছে। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই সহিংসতার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, তারা এক ইঞ্চি ফিলিস্তিনি জমিও ইসরায়েলের কাছে ছাড়বেন না। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের কোন বিকল্প নেই এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার ছাড়া এই সংকটের কোন সমাধান নেই।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরও ১ হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ওই এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের হঠাতে তাদের ওপর টিয়ারগ্যাস, রাবাট বুলেট ছুড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। চলমান বিক্ষোভে শনিবার অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে সব সময় ইসরায়েলের কড়া সামরিক পাহারা থাকে। সেখানে ইসরায়েল তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০শে মার্চ ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে ছয়জন নিহত হয়।

ছয়সপ্তাহব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে। ওই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা নাকবা বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়ি-ঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে। ইস্তাম্বুল শহর থেকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, এই অমানবিক আক্রমণের ঘটনায় আমি ইসরায়েলি সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর শক্তি প্রদর্শনকে আতঙ্কজনক বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। এক টুইট বার্তায় করবিন বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার অবশ্যই শান্তি এবং ন্যায় বিচার স্থাপনের দাবি জানাবে।

ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ঘটনায় জর্ডান, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিন্দা জানিয়েছে।

টিটিএন/জেআইএম