ঘুষ নিয়ে ধর্ষিতা মেয়ের বয়ান বদলানোর চেষ্টায় বাবা-মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৩:১৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

ভারতের দিল্লিতে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে যে, তার বয়ান বদল করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য তার বাবা-মা অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। ১৫ বছরের ওই কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তার বাবা এখনও পলাতক।

গত বছর অাগস্ট মাসে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল ওই কিশোরীর ওপর।
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই কিশোরী জানিয়েছে, গ্রেফতার করার পর থেকেই অভিযুক্তদের তরফ থেকে তার বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে।

ওই কিশোরী জানায়, তার বাবা-মা চাপ দিচ্ছিল আদালতে তার বয়ান বদল করতে। বিশ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হয়েছিল ধর্ষিতার পরিবারকে। অগ্রিম হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল মেয়েটির বাবা-মাকে।

সে বয়ান বদল করতে না চাওয়ায় বাবা-মা তাকে মারধরও করেছে। এমনকি একটা ঘরে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল তাকে। বাবা মা যখন বাড়িতে ছিলেন না সেই সময় ওই মেয়েটি বাড়িতে রাখা নগদ টাকার বান্ডিল নিয়ে প্রেম নগর পুলিশ ফাঁড়িতে হাজির হয়।

আউটার দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এন তিওয়ারী বলেন, প্রথমে ফাঁড়ির ডিউটি অফিসারকে ওই কিশোরী জানায় যে, তার কাছে কাগজে মোড়া তিন লাখ টাকা রয়েছে। অভিযুক্তরা ওই টাকা দিয়েছে তার বাবা-মাকে, যাতে সে আদালতে বয়ান বদল করে। টাকাটা বিছানার নীচে রাখা ছিল। বাবা-মা কাজে চলে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে ওই কিশোরী টাকার বান্ডিল নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হয়।

পরে অবশ্য গুনে দেখা যায় যে ওই বান্ডিলে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা রয়েছে। ওই কিশোরী পুলিশকে আরও জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই তার ওপরে বয়ান বদলের জন্য চাপ দিতে শুরু করে বাবা-মা।

তিওয়ারী জানিয়েছেন, মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবা-মা এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
কিশোরীর মাকে গ্রেফতার করা গেলেও তার বাবা পলাতক রয়েছেন। ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পরে সে বাড়ি ফিরে আসে। তখনই সে জানায় যে, তাকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

এক সপ্তাহ ধরে তাকে নয়ডা আর গাজিয়াবাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও সে অভিযোগ জানিয়েছিল পুলিশের কাছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকারই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

তারপর থেকেই বয়ান বদল করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, ঘুষও দেওয়া হয়েছে বাবা-মাকে। পুলিশ বলছে, এ ধরণের ঘটনা খুবই বিরল। নানা সময়ে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের দিক থেকে সমাজ মুখ ফিরিয়ে নিলেও সাধারণত দেখা যায় যে বাবা-মা অন্তত তার পাশে আছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বাবা-মাই মেয়েটিকে বয়ান বদলের জন্য চাপ দিলেন। এটা সত্যিই খুব আশ্চর্যজনক।

টিটিএন/এমএস