নির্বাচনের আগে সহিংসতা কেন পাকিস্তানে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৯ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৮

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩২ জন নিহত হয়েছে। ওই হামলায় আরও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। ২০১৪ সালের পর দেশটিতে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা।

বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটার কাছে মাসতুং শহরে চালানো ওই হামলায় প্রাদেশিক নির্বাচনের একজন প্রার্থীও প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার সকালে উত্তরাঞ্চলীয় বান্নু শহরে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে বোমা হামলায় চারজন নিহত হয়েছে।

আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে আরও সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। গত মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলীয় পেশোওয়ার শহরের একটি নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ জন নিহত হয়। পাকিস্তানি তালেবান ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

মাসতুং শহরে শুক্রবারের হামলায় যত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, পাকিস্তানে গত এক বছরেরও বেশি সময়েও একক কোন হামলায় এতো ব্যাপক সংখ্যক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী সিরাজ রাইসানি ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির একজন প্রার্থী ছিলেন।

সাম্প্রতিক এই হামলা ঘটনাটি পাকিস্তানে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। সোনাবাহিনী একদিকে যেমন দাবি করছে যে, তারা জঙ্গিদের তাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি এ রকম একটি হামলার ব্যাপারে কাছ থেকে কোন হুমকিও ছিল না।

তবে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংস্থাটির মুখপত্র আমাক নিউজে ওই হামলার পেছনে আইএসের হাত রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে ওই হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে, ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে জঙ্গিরা আগাম হুমকি দিয়েছিল। ফলে তখন কিছু কিছু রাজনৈতিক দল খুব কমই প্রচারণা চালিয়েছিল। কিন্তু এবার হামলার আগে তেমন কোনো হুমকি আসেনি। ফলে এ ধরনের হামলার কোনো আশঙ্কাই ছিল না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়া দলগুলোই আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। আর আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এসব দল যাতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে না পারে সেজন্য নানাভাবে তাদের বাধা দেয়া। সবশেষ এই হামলার পর নির্বাচনের আগে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে।

শুক্রবারের সব শেষ হামলা চালানো হয়েছে লন্ডন থেকে শরীফের লাহোরে ফিরে আসার কয়েক ঘণ্টা আগেই। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দেশে ফেরা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা।

Pakistan1

তাকে স্বাগত জানাতে গিয়ে বিক্ষোভ করলে তার বহু সমর্থককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শহরে নামার পর গ্রেফতার করা হয়েছে নওয়াজ শরীফকেও। তার আগে আবুধাবীতে শরীফ বিবিসিকে বলেন, আগামী নির্বাচনের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ সরকার বিরোধীদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে।

লন্ডন থেকে মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে সাথে নিয়েই দেশে ফিরেছেন নওয়াজ শরীফ। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টার দিকে লাহোর বিমানবন্দরে নামার পর নওয়াজ ও তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে গ্রেফতার করা হয়। দুর্নীতির দায়ে ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে ৭ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু আদালত যখন তাদের সাজা ঘোষণা করেন তখন তারা দু’জনেই লন্ডনে ছিলেন। সেখানে নওয়াজ শরীফের স্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

এর আগে নওয়াজ শরিফের দেশে ফেরার খবরে লাহোরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় প্রশাসন। লাহোর শহরে অতিরিক্ত ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা কাইম লাসহারি জানিয়েছেন, নির্বাচনী ওই সমাবেশে এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল। ইরান এবং আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত মাসতুং শহরে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট, তালেবান এবং আল কায়েদা সক্রিয় রয়েছে। ওই অঞ্চলের আদিবাসী বেলুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ রয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি মাজারে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ৮৩ জন নিহত এবং আরও ১৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।

টিটিএন/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :