ইরানের মিসাইল ভূপাতিত
এবার কি তবে যুদ্ধে জড়াবে তুরস্ক?
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবারও নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমার কাছে ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার (৪ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় জেলা ডর্টিওলে পড়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তুরস্কের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়েছে।
তুরস্কের কঠোর হুঁশিয়ারি
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার বিবৃতিতে বলেছে, তুরস্ক তার ভূখণ্ড ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম, তা হুমকি যেখান থেকেই আসুক না কেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো বৈরী কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে আমাদের।’
যুদ্ধে জড়াবে তুরস্ক?
এই ঘটনাটি তুরস্ককে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনার আশঙ্কা তৈরি করেছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। কয়েকদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে।
ইরানে যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এরই মধ্যে তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাদ, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সাইপ্রাসও।
তবে তুরস্ককে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। কারণ, তুরস্ক পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। ফলে তাদের ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হামলা হলে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ সক্রিয় হতে পারে। এর অর্থ হলো—তুরস্কের ওপর হামলা মানে পুরো ন্যাটোর ওপর হামলা।
যদিও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সম্প্রতি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জোট হিসেবে ন্যাটোর জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
ব্রাসেলস থেকে জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের সক্ষমতা দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সংঘাতে ন্যাটো জড়িয়ে পড়বে বা এর অংশ হবে—এমন কোনো পরিকল্পনা একেবারেই নেই।’
রুটে আরও উল্লেখ করেন, জোট হিসেবে ন্যাটো অংশ না নিলেও পৃথক সদস্য রাষ্ট্রগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে নিজ নিজ সিদ্ধান্তে সমর্থন দিতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষকদের অভিমত
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি সরাসরি তুরস্ককে লক্ষ্যবস্তু না করে থাকে, তাহলে হয়তো সিরিয়া বা ইরাকে থাকা মার্কিন বা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত চেয়েছিল। কিন্তু তুরস্কের ভূখণ্ডে আঘাত লাগলে তা আঙ্কারাকে প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, ইউএনবি
কেএএ/