চীনে ইন্টারপোলের সাবেক প্রধানের সাড়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

ফ্রান্সের লিঁওভিত্তিক আন্তর্জাতিক পুলিশ বিষয়ক সংস্থা ইন্টারপোলের সাবেক প্রধান মেং হোংউআইকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে মঙ্গলবার ১৩ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন চীনের একটি আদালত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দৈনিক গার্ডিয়ানের অনলাইন প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

মেং হোংউআই ছিলেন ইন্টারপোলের প্রথম চীনা প্রধান। ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স থেকে চীনে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজের কয়েকদিন পর মেং হোংউআইকে আটকে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে চীন। বেইজিং তখন জানায়, আইনভঙ্গের কারণে দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।

রায়ে আদালত জানান, মেং এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন না। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মেং দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষগ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। চীনের উত্তর-পূর্বের তানজিন শহরের নম্বর ওয়ান ইন্টারমেডিয়েট আদালত ইন্টারপোলের সাবেক ওই প্রধানকে দুই মিলিয়ন ইউয়ান (চীনা মুদ্রা) জরিমানাও করেছেন।

ইন্টারপোলের প্রথম চীনা প্রধান হিসেবে মেং হোংউআইয়ের ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু ইন্টারপোল তখন জানায়, মেংয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার কয়েকদিন পর তারা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র পেয়েছে। শর্ত অনুসারে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জং ইয়াংকে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট করেছে তারা।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি জানায়, ইন্টারপোল প্রধান তার ক্ষমতাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এছাড়া সরকারি তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে নিজের পরিবারের বিলাসবহুলে জীবনযাপনের পেছনে ব্যয় করেছেন। যা দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির নীতিবিরোধী ও এর প্রতি স্পষ্ট অসম্মান।

কমিউনিস্ট পার্টির নীতি নির্ধারণী ওয়াচডগ সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইনসপেকশন (সিসিডিআই) জানায়, আটকের পর মেংকে দল থেকে বহিষ্কার করা ছাড়াও সরকারি সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। গত বছর মেং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করে।

তবে তার স্ত্রী, যিনি এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফ্রান্সে বসবাস করছেন, তিনি জানান তার স্বামীর বিরুদ্ধে চীন সরকার যে অভিযোগ তুলেছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওেই দুর্নীতিবিরোধ অভিযান নিয়ে অনেক সমালোচকের বক্তব্য, দলের প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের মুখ বন্ধ করতেই তিনি এই কাজ করছেন।

এসএ/এমকেএইচ