ব্রেক্সিট চুক্তি : কী ঘটবে সামনের দিনগুলোতে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:১১ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ | আপডেট: ০২:২৯ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রায় সাড়ে চার বছর পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই চুক্তি হলো।

গত বৃহস্পতিবার চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান ব্রেক্সিট মধ্যস্থতাকারী মাইকেল বারনিয়ার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আশা করা হচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট দ্রুত এই চুক্তির অনুমোদন করবে। প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার এই চুক্তিটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ভোটের জন্য এটি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে পেশ করবেন।

চুক্তিটি কোনো সমস্যা ছাড়াই ব্রিটেনের পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ একদিকে জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্যদিকে বিরোধী লেবার পার্টিও নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিহীন বিচ্ছেদের ফলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারতো তার একমাত্র বিকল্প হিসেবে চুক্তিটিকে তারা সমর্থন করছে।

জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কী পরিবর্তন ঘটবে?
এই চুক্তিটি ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান বাণিজ্যব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে। ২০২১ সালের শুরু থেকে আগের মতোই যুক্তরাজ্য ইউরোপের একক বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বছরে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়।

তবে এই চুক্তির পরও যুক্তরাজ্য-ইইউ’র বাণিজ্যে জানুয়ারি থেকে ব্রেক্সিটের কিছুটা প্রভাব পড়বে। এই চুক্তি যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যান্য দেশের মতোই তৃতীয় দেশে পরিণত করেছে। ফলে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্য কোনো বাড়তি সুবিধা পাবে না। শ্রমিকের অধিকার ও পরিবেশগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইইউ’র আইনগুলোর সঙ্গে তাদের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি মানতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সালিসি এবং শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের মতো ব্যবস্থার গ্রহণ করা হতে পারে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্য-ইইউ বাণিজ্য আগের মত স্বচ্ছন্দ থাকার সম্ভাবনা কম।

চুক্তির প্রতিক্রিয়া
গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই চুক্তিকে বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি একে বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যুক্তরাজ্য তার আইন, সীমানা ও মাছ ধরার জলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। তিনি বলেন, ব্রিটেন শিগগিরই নতুন করে সত্যিকারের স্বাধীনতা পেতে যাচ্ছে। একই সাথে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৈত্রী ও বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

অপরপক্ষে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেছেন, অবশেষে আমরা একটি চুক্তি করতে পেরেছি। আমরা অনেক সময় নিয়েছি কিন্তু একটি ভালো চুক্তি করতে পেরেছি। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে ব্রেক্সিটকে পেছনে ফেলে আমাদের ভবিষ্যৎ ইউরোপ নির্মাণ করার।

অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং চুক্তিহীন বিচ্ছেদের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

ফারুক ফেরদৌস/টিটিএন/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]