সাত দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। লিসা মন্টগোমেরি নামে ৫২ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৭ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ববি জো স্টিনেট নামে আট মাসের এক অন্তঃসত্ত্বাকে খুন করেছিলেন তিনি।

মন্টগোমেরির আইনজীবীদের দাবি ছিল, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই লিসার মৃত্যুদণ্ড রদ করা হোক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুধবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত দেড়টায় বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। খবর এপি।

মন্টগোমেরির আইনজীবী কেলি হেনরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ রাতে এক ব্যর্থ প্রশাসনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রদর্শনী ছিল। লিসা মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা প্রত্যেকেরই লজ্জা বোধ করা উচিত।’

হেনরি আরও বলেন, ‘এক ক্ষতিগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত নারীকে হত্যা করার উদ্যোগ থেকে সরকার কিছুতেই থামেনি। তার মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মতো অপরাধ ছিল না।’

লিসা মন্টগোমেরি ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস থেকে গাড়ি চালিয়ে মিসৌরিতে ভুক্তভোগী ববি জো স্টিনেটের বাড়িতে আসেন। স্টিনেট তখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। লিসা ঘরের ভেতরে প্রবেশের পর স্টিনেটকে আক্রমণ করেন এবং তার গলা টিপে ধরেন। এক পর্যায়ে স্টিনেট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

মন্টগোমেরি এরপর ছুরি দিয়ে স্টিনেটের তলপেট চিরে ফেলেন। তখন স্টিনেটের জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর তাদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি হয়। মন্টগোমেরি তখন স্টিনেটের গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। মন্টগোমেরি পরে স্টিনেটের পেট থেকে শিশুটিকে বের করে তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। তিনি শিশুটিকে তার নিজের সন্তান বলে চালানোর চেষ্টা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলে একজন বিচারক অপহরণ ও হত্যার দায়ে মন্টগোমেরিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মন্টগোমেরির আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেয়া হয় যে শৈশবে গণধর্ষণসহ ‘যৌন নির্যাতনের’ শিকার হয়েছিলেন তিনি। এর ফলে তার আবেগ ও মানসিক অবস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা মৃত্যুদণ্ড মওকুফ চেয়েছিলেন।

এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]