এল মেনচোকে হত্যার পর মেক্সিকোজুড়ে চরম সতর্কতা, বন্ধ স্কুল-রাস্তায় সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৩ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের রাস্তাগুলোতে মেক্সিকান সেনা সদস্যদের পাহারা/ ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর সবচেয়ে কুখ্যাত ও মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক সম্রাট নেমেসিও ‘এল মেনচো’ ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেসকে হত্যার পর দেশজুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ও রাস্তায় সেনা নামানো হয়েছে।

জানা গেছে, এল মেনচোকে হত্যার পর মেক্সিকোজুড়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঢেউ উঠেছে; পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার দাবি করলেও দেশটি এখনো উচ্চমাত্রার সতর্কতায় রয়েছে বলে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম বলেছেন, দেশে শান্তি ফিরে এসেছে ও ফের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) গুয়াদালাহারা শহর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দূরে পরিচালিত এক সামরিক অভিযানে এল মেনচো নিহত হন। এরপর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় মেক্সিকোর ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২০টিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

গুয়াদালাহারা মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। এই অঞ্চলে এল মেনচো নেতৃত্বাধীন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) ঘাঁটি। সেখানে অন্তত ২ হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গুয়াদালাহারা ছাড়াও মেক্সিকোর আরও কয়েকটি শহরে স্কুল বন্ধ রাখা হয়। গণপরিবহণ আংশিকভাবে চালু হলেও বাসে যাত্রী ছিল কম; সহিংসতার পর মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে।

সোমবার নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানান, কার্টেল প্রধানকে হত্যার সামরিক অভিযান ও এর পরপরই চলা সহিংসতায় কমপক্ষে ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যও আছেন। তিনি বলেন, ৫৯ বছর বয়সী এই মাদকসম্রাট মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র- উভয় দেশেরই সবচেয়ে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধীদের একজন ছিলেন।

এল মেনচোকে মেক্সিকোর শেষ প্রজন্মের সবাই একজন নিষ্ঠুর মাদকসম্রাট হিসেবে চেনে। ২০০৯ সালে গঠিত সিজেএনজির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন তিনি। গঠনের পর থেকেই কার্টেলটি দেশের সবচেয়ে সহিংস অপরাধচক্রে পরিণত হয়।

এল মেনচো নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজন সিজেএনজি সদস্যরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গাড়িতে আগুন দেন ও বহু সড়ক অবরোধ করেন। এছাড়া ব্যাংক, জ্বালানির পাম্প ও দোকানেও হামলা চালান তারা।

মেক্সিকো সিটি থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক জন হোলম্যান জানান, এল মেনচো নিহত হওয়ার পর গোটা দেশে এক ধরনের অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এসেছে। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীকে থামাতে ও বিশৃঙ্খলা তৈরিতে সিজেএনজি যেসব ট্রাক রাস্তায় ফেলে রেখেছিল, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, এল মেনচোকে ধরতে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো- উভয় দেশেই অভিযান সফল করায় মেক্সিকান সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেনবাউম জোর দিয়ে বলেন, অভিযানে কেবল মেক্সিকোর বাহিনীই অংশ নেয়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাহিনী অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে তারা মার্কিন সরকার আমাদেরকে উল্লেখযোগ্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। পুরো অভিযানের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন, সবই মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বে হয়েছে।

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে সিজেএনজির ভেতরে সরাসরি উত্তরসূরি না থাকায় সংগঠনের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হতে পারে। ফলে নেতৃত্ব দখলে সহিংস লড়াই আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।