যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বন্দুক হামলা হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২৮ মে ২০২২

পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি বর্ণবাদী অথবা মানসিকভাবে অসুস্থ রোগী রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি সিস্টেম বিদ্যমান যেখানে এসব মানুষেরা খুব সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে যে কারও ওপর হামলা করতে পারে। যা অন্য অনেক দেশেই খুব কঠিন কাজ।

গত বৃহস্পতিবার ১৮ বছরের এক কিশোর বন্দুক নিয়ে টেক্সাসের একটি স্কুলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৯ শিশু ও দুইজন শিক্ষক নিহত হন। বন্দুক হামলার ঘটনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিচিত দেশ। এ ধরনের হামলা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সহজে দেখা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা বা সহিংসতার অন্যতম কারণ হলো বন্দুকের সংখ্যা। যেখানে বন্দুকের সংখ্যা বেশি হবে সেখানে হামলায় মৃত্যুর ঘটনাও বেশি হবে। এটা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত। যেখানে বন্দুক সহজলভ্য, সেখানে এটির ব্যবহার বেশি।

একটি কঠোর আইন এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। কমতে পারে হামলার ঘটনা, যা অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু একটি শিথিল বন্দুক আইন মৃত্যুর সংখ্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্রের আইন খুবই সহজ ও শিথিল। অন্য উন্নত দেশগুলোতে একটি অস্ত্রের জন্য অন্তত একটি লাইসেন্স প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডও যাচাই-বাছাই করা হয় না।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অন্য যে কোনো ধনী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের সংখ্যা বেশি, ফলাফল মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। এ ক্ষেত্রে দেশটিতে রয়েছে ব্যাপক মতানৈক্য। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন, যেখানে উন্নতি করা প্রয়োজন।

তাছাড়া অনেক বন্দুক হামলার ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে শিরোনাম হয় না। ২০২১ সালে দেশটিতে বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যার সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি। কঠোর আইনের মাধ্যমেই এসব মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে।

প্রায়ই দেশটির কোনো না কোনো অঙ্গরাজ্যে নৃশংস বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে। যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬১টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

এমএসএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]