উজিরপুর হিজলা বাবুগঞ্জে বিজয়ী যারা
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথমধাপে ৭টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ৭টি ইউনিয়নেই জয় পেয়েছেন।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার জসীম উদ্দিন রিটার্নিং অফিসারদের বরাত দিয়ে জানান, জল্লা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু ৯ হাজার ৮৯৪ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী উর্মিলা বাড়ৈ আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯৩ ভোট।
বড়কোঠা ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ১২ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই ইউনিয়নে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শাহে আলম আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৩১ ভোট।
বামরাইল ইউনিয়নে ১২ হাজার ৬২৩ ভোট পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাওলাদার বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আ. মতিন সরদার নান্টু পেয়েছেন ১ হাজার ৮১১ভোট।
শোলক ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী হুমায়ুন কবির ৯ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মশিউর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার৭৮১ভোট।
ওটরা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেন ১২ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৫ভোট।
হারতা ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হরেন রায় ১০ হাজার ৩৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী বিমল করাতী ১ হাজার ১১০ ভোট পেয়েছেন।
সাতলা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মেনোনীত প্রার্থী আ. খালেক আজাদ ১২ হাজার ৭২৫ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৬২ ভোট।
এদিকে হিজলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথমধাপে ৪টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ৪টিতেই বিজয়ী হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুহা. আ. রশিদ সেখ রিটার্নিং অফিসারদের বরাত দিয়ে জানান, বড়জালিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহবুদ্দিন ১২ হাজার ৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোজাম্মেল হক হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ২৮ ভোট।
মেমানিয়া ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন ৯ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই ইউনিয়নে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মো. মোসলেহ উদ্দিন খান হাতপাখা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৫ ভোট।
গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৪ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান তালুকদার বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী হাতপাখা নিয়ে হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৪৪০ ভোট।
হরিনাথপুর ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ. লতিফ ১০ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী আব্বাস সিকদার হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪ ভোট।
অপরদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনিয়ম ও সংঘর্ষের কারণে রহমতপুর ও চাঁদপাশা ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ৩টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন। একটিতে ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী বিজয় পেয়েছেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন অফিসার মো. আ. হাই আল হাদী রিটার্নিং অফিসারদের বরাত দিয়ে জানান, কেদারপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরে আলম বেপারী ৭ হাজার ১৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান হাতুরী প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬২৩ ভোট।
জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ৮ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই ইউনিয়নে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী রায়হান উদ্দিন আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩৪ ভোট।
মাধবপাশা ইউনিয়নে ৯ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওয়াহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৯ ভোট।
এছাড়া দেহরগতি ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী মশিউর রহমান হাতুরী প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী জসিম উদ্দিন শুভ পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৩ ভোট।
সাইফ আমীন/বিএ