ক্যান্সারের কাছে হেরেই গেলেন ইয়োহান ক্রুয়েফ


প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

মাঠে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ফুটবলের শতাব্দীকালে অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে তিনি বিবেচিত। শুধু ফুটবলার হিসেবেই নন, তিনি সাফল্য পেয়েছিলেন কোচ হিসেবেও। তবে তার পরিচয়, টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবে। ইয়োহান ক্রুয়েফ। মাঠের সবুজ ক্যানভাসে প্রতিপক্ষের সামনে যতই তিনি অপ্রতিরোধ্য হোন না কেন, শরীরে বাসা বাধা ক্যান্সারের কাছে খুব সহজেই হেরে গেলেন ইয়োহান ক্রুয়েফ। অবশেষে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে পরপারেই পাড়ি জমাতে হলো কিংবদন্তী এই ফুটবলারকে।

মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ার পর এখনও এক বছরও পার হয়নি। গত অক্টোবরেই ধরা পড়েছিল তার শরীরে বাসা বেধে ক্যান্সার। বার্সেলোনা এবং আয়াক্সের সাবেক এই তারকা ফুটবলার এবং কোচ ওই সময়ই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে হবে তার। কিন্তু বেশিদিন তো পার হয়নি এরপর। কেন জানতো এত তাড়াতাড়ি জীবন কেড়ে নেবে কিংবদন্তী এই ফুটবলারের! আজ সকালেই মাত্র ৬৮ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমালেন তিনি।

ক্রুয়েফের নিজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেই বিবৃতিটা দেয়া হলো। জানানো হয়েছে, ‘মৃত্যুর সময় স্বজনেরা তার পাশেই ছিলেন। ক্যান্সারের সঙ্গে কঠিন লড়াই শেষে স্বজন পরিবেষ্টিত হয়েই চীরদিনের মত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।’

ক্রুয়েফের হঠাৎ মৃত্যু যেন বজ্রাহতের মত আঘাত করেছে ফুটবল বিশ্বকে। উইরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা, এশিয়া থেকে আফ্রিকা- কোন মহাদেশে নেই তার ভক্ত। টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবে তার ভক্তের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল আরও বেশি। যে কারণে সর্বকালের সেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠে আসবে তার নাম। ইয়োহান ক্রুয়েফের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত হয়ে উঠেছে পুরো ফুটবল দুনিয়া। অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল খবরটি। কিন্তু নিয়তি কে তো আর না মেনে উপায় নেই!

আয়াক্সে ক্যারিয়ারের শুরু করেছিলেন ক্রুয়েফ। মূলতঃ তখনই তার পায়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে টোটাল ফুটবল। এই ক্লাবের হয়ে দু’দফায় মোট আটবার ডাচ ফুটবলেল শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। অবশেষে ক্রুয়েফের ক্যারিয়ারের পূর্নতা পেলো স্পোনের বার্সেলোনা ক্লাবে আসার পর। পরে এই দুই ক্লাবেরই কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কোচ হিসেবেও দু’ক্লাবকে এনে দিয়েছেন অনেক সাফল্য। আয়াক্সের হয়ে টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছেন, বার্সেলোনার হয়ে কোচ হিসেবেও জিতেছেন একই শিরোপা। তিনবার জিতেছিলেন ইউরোপিয়া ফুটবলার অব দ্য ইয়ারের পুরস্কার।

১৯৭৪ সালে হল্যান্ডকে তুলে এনেছিলেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু জার্মানির কাছে হেরে অল্পের জন্য ডাচদের এনে দিতে পারেননি বিশ্বকাপ। আজীবন এই আক্ষেপে পুড়েছেন তিনি। এবার সেই আক্ষেপ থেকে চিরদিনের জন্য মুক্তি মিলে গেলো ক্রুইফের। ফুটবলে ঠোককাটা হিসেবেও বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। কারো রাগ-অনুরাগের তোয়াক্কা করতেন না। যা মনে আসতো তাই প্রকাশ করে দিতেন তিনি। এ কারণে অনেকেরই বিরাগভাজন ছিলেন ক্রুয়েফ।

ডাচ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তাতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ডাচ ফুটবলের সর্বকালের সেরা, বিশ্ব ফুটবলেরও অন্যতম সেরা ছিলেন তিনি। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি আমরা। একই সঙ্গে তার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবসহ সবার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আমরা আশা করবো, তার মৃত্যুতে যে কঠিন সময় তৈরী হয়েছে, এ সময় সবাই ধৈয্যধারণ করতে পারি।’

আইএইচএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।