সু চির সঙ্গে কাজ করবে সেনাবাহিনী
মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। রোববার রাজধানী নাইপিদোতে বার্ষিক সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অঙ হ্লেইং এ কথা বলেন।
৫৪ বছরের সামরিক জান্তা শাসনের পর আগামী সপ্তাহে দেশটিতে সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে। জেনারেল মিন অঙ হ্লেইং বলেন, দেশের সমৃদ্ধির জন্য সেনাবাহিনী কাজ করবে। তবে এতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি এবং আইন অমান্য গণতন্ত্রের জন্য প্রধান দুটি বাধা। এটি গণতন্ত্র বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারে। ২০১১ সালে আধা বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ শাসনের অধীনে ছিল। 
গত বছরের নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হলেও মিয়ানমারে রাজনীতিতে এখনো সেনাবাহিনীর শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। এদিকে সু চির দীর্ঘদিনের সহযোগী হতিন কিয়াও আগামী শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম অফিস করবেন।
সেনাপ্রধান এবং সু চির আগামী পাঁচ বছরের সম্পর্কই হবে দেশটির রাজনীতির প্রধান চাবিকাঠি। শান্তিতে নোবেল জয়ী এনএলডি নেত্রী বিপুল ভোটে জয়ী হলেও সেনাবাহিনী সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারেনি সু চি। দেশটির সংবিধানে বলা আছে, কোনো নাগরিকের স্বামী অথবা সন্তান বিদেশি নাগরিক হলে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।
মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হলেও রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনী জন্য। এছাড়া সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না সরকার।
এসআইএস/পিআর