ইকুয়েডর

টেলিভিশনের লাইভ প্রোগ্রামে ঢুকে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ এএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৪
ছবি সংগৃহীত

ইকুয়েডরে টেলিভিশনে লাইভ প্রোগ্রাম চলার সময় স্টুডিওতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে মাস্ক পরিহিত বন্দুকধারীরা। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে কর্মীদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় বেশ কয়েকজন কর্মীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: ইকুয়েডরে জরুরি অবস্থা জারি

গুয়ায়াকিল শহরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিসির একটি লাইভ প্রোগ্রাম প্রচারের সময় এই ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে ওই অস্ত্রধারীদের স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে তারা ওই টিভি চ্যানেলের বেশ কয়েকজনকে জিম্মি হিসেবে অপহরণ করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কী কারণে টেলিভিশনের ওই লাইভ প্রোগ্রামে বন্দুকধারীরা এভাবে তাণ্ডব চালালো তা এখনও পরিষ্কার নয়। দেশটিতে এর আগে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সর্বোচ্চ-নিরাপত্তা থাকার পরেও মাদক চক্রের কুখ্যাত এক নেতার কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সহিংসতায় জর্জরিত দেশটির বেশ কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশজুড়ে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যেই টিভি চ্যানেলের এই ঘটনা সামনে এলো। মঙ্গলবার টিভি স্টেশনে তাণ্ডব চালানোর সময় এক বন্দুকধারী বন্দিদের মধ্যে একজনের মাথায় একটি পাম্প-অ্যাকশন শটগান ধরে রাখেন। ওই একই ব্যক্তিকে অন্য একজনও রিভলবার দিয়ে ভয় দেখাচ্ছিল।

গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ড্যানিয়েল নোবোয়া। ইকুয়েডরের রাস্তা এবং কারাগারে আগামী দুই মাসের জন্য সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। দেশটির কুখ্যাত অপরাধী জোসে অ্যাডলফো ম্যাকিয়াস ওরফে ফিটোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

jagonews24.com

প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিন রাত ১১টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে। ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওতে তিনি বলেন, জরুরি অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব পালনের সময় সব ধরনের রাজনৈতিক এবং আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ইকুয়েডরবাসীর জন্য শান্তি ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আমরা কোনো আলোচনা করব না বা বিশ্রামে যাব না। গত রোববার শক্তিশালী গ্যাং লস কোনেরসের নেতা ফিটো পালিয়ে যান। গুয়াকিলের বন্দর নগরীতে একটি কারাগার পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পারে যে ওই কুখ্যাত অপরাধী পালিয়ে গেছেন।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র রবার্তো ইজুরিয়েটা বলেন, ৪৪ বছর বয়সী এই অপরাধী তার সঙ্গে থাকা কারাগারের অন্য বন্দিদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। এরপর পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর কয়েক ঘন্টা আগেই তিনি পালিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন: কারাগারে ফিরতে হচ্ছে বিলকিস বানুর ধর্ষকদের

বিশ্বের শীর্ষ কলা রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ইকুয়েডর। তবে দেশটি তেল, কফি, কোকো, চিংড়ি এবং মাছও রপ্তানি করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক চক্রগুলোর মধ্যে লড়াইয়ের কারণে দেশটির কারাগারের ভেতরে এবং বাইরে প্রায়ই সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।