ভারতে আইটি সেক্টরে কোন নির্বাহী প্রধানের বেতন সবচেয়ে বেশি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২০ এএম, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
ছবি সংগৃহীত

যে কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানের বেতন বেশ আকর্ষণীয় হয়। এটি কম-বেশি সবাই জানেন। কিন্তু কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানদের বেতন শুনলে রীতিমতো চোখ কপালে উঠে যাবে। ভারতে গত বছর কগনিজ্যান্টের আয় ছিল ১৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর ০.১১ শতাংশ ছিল সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রবি কুমার সিঙ্গিসেট্টির বেতন। 

রবি কুমার সিঙ্গিসেট্টি তার কোম্পানি থেকে গত বছর ২২ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮৬ কোটি টাকা) পেয়েছেন যা তাকে ভারতীয় আইটি সেক্টরে সর্বোচ্চ বেতনভোগী নির্বাহী কর্মকর্তার আসনে বসিয়েছে। গত বছর রবি কুমার সিঙ্গিসেট্টি ২০ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৬৯.১ কোটি টাকা) মূল্যের শেয়ার পেয়েছিলেন।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মোট রিটার্নের ভিত্তিতে চার বছরের কাজের দক্ষতার ওপর শূন্য শতাংশ থেকে ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হয়।

এছাড়াও তিনি ৫ মিলিয়ন ডলারের ইক্যুইটিও পেয়েছেন। গত বছর কোম্পানি থেকে বেশ বড় অংকের অর্থ পেয়েছেন রবি কুমার সিঙ্গিসেট্টি। ফলে গত বছর আইটি সেক্টরের নির্বাহীদের মধ্যে ৫২ বছর বয়সী রবি কুমার সিঙ্গিসেট্টিই সর্বোচ্চ আয় করেছেন।

এই সেক্টরের অন্যান্য প্রধান নির্বাহীরাও বেশ আকর্ষণীয় বেতন পাচ্ছেন। দেশটির উইপ্রো লিমিটেডের প্রাক্তন সিইও থিয়েরি ডেলাপোর্ট পেয়েছেন ১০.১ মিলিয়ন ডলার (৮৩ কোটি টাকা), যা কোম্পানির ১১.১৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের ০.০৮৯ শতাংশ।

এইচসিএল সি এইচসিএল টেকনোলজিস লিমিটেডের বিজয় কুমারের পারিশ্রমিক ১০.৬৫ মিলিয়ন ডলার (৮৮ কোটি টাকা), যা কোম্পানির ১২.৫৮ বিলিয়ন ডলার আয়ের ০.০৮৫ শতাংশ।

অ্যাকসেনচার পিএলসির সিইও জুলি সুইটকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৩১.৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা কোম্পানির ৬৪.১ বিলিয়ন ডলার আয়ের ০.০৪৯ শতাংশ।

ইনফোসিসের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর সলিল পারেখের পারিশ্রমিক ৬.৮ মিলিয়ন ডলার (৫৬.৪ কোটি টাকা), যা সংস্থার ১৮.১ বিলিয়ন ডলার আয়ের ০.০৩৭ শতাংশ।

টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের প্রাক্তন সিইও রাজেশ গোপীনাথন ৩.৫ মিলিয়ন ডলার (২৯.১৬ কোটি টাকা) আয় করেছেন, যা কোম্পানির ২৭.৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের ০.০১২ শতাংশ

তবে কগনিজ্যান্টের প্রধান নির্বাহী রবি কুমারের আয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বেশ অসন্তোষ রয়েছে। কগনিজ্যান্টের আয় কমলেও তার আয় বেড়েছে। ভারতে কর্মচারীদের চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি বেতন পাচ্ছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা। ফলে দেশটিতে বেতন সংক্রান্ত একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গত বছর কগনিজ্যান্টের খুব বেশি মুনাফা হয়নি। কোম্পানির আয় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তারপরও কোম্পানি রবি কুমার সিংসেট্টিকে এককালীন পুরস্কারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছে। এতে পারফরম্যান্স স্টক ইউনিট এবং নগদ সাইন-ইন বোনাসও রয়েছে।

এর আগে ব্রায়ান হামফ্রিজ, যিনি ২০২৩ সালে কোম্পানির সিইও ছিলেন তাকে ৪২ লাখ এবং সিএফও যতীন দালালকে ৫২ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি কগনিজ্যান্টের কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট ৪ মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।