কিউবায় রেজিম চেঞ্জ
সামরিক বিকল্প থাকলেও আপাতত কূটনৈতিক পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র
কিউবায় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক মন্তব্য করলেও তবে আপাতত কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৩ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, ওয়াশিংটন কিউবার অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য চাপ দিচ্ছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, নাগরিকদের জন্য উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি কেনার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ইঙ্গিত দিয়েছে-হয়ত এখনই পুরোপুরি সরকার পরিবর্তন না হলেও, শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করতে হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযান শেষ হলে কিউবার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এমনকি ইরান থেকে ফেরার পথে মার্কিন নেভি (সেন্টকম) কিউবা দখল করবে বলেও উপহাস করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে বর্তমানে কিউবার অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ কানেল জানান, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তা দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধানে সংলাপের মাধ্যমে এগোনোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গোপনে কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত আছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম কেনেল রেড-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সব বিষয় উঠতে পারে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কখনোই আলোচনা হতে পারে না। এমনকি কিউবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে কখনোই প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া হবে না।
লাতিন আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক বলয়ের দেশ কিউবাকে নিজেদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবৃতি দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে দেশটিকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের পর তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবা। এই সংকটময় মুহূর্তে কিউবা-কে সহায়তা করা রাশিয়ার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তাই কিউবায় তেল, গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে ।
রাশিয়ার যোগাযোগ ও পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রেই নিকিতিন বলেন, কিউবা আমাদের কৌশলগত অংশীদার, আমরা অতীতে সহায়তা করেছি, এখন করছি এবং ভবিষ্যতেও করব।
কেএম