পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচন

চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণে সহিংসতা, তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ১৩ মে ২০২৪

ভারতের সাত দফা লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সোমবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এ দফার পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনের মধ্যে ৮টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। আসগুলো হলো বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল, বোলপুর ও বীরভূম। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব আসনে ৭৫.৬৬ শতাংশ ভোট পড়ে।

এদিনের ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রায় সব আসনেই সহিংসতা ঘটেছে। এমনকি, নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সহিংসতায় প্রাণ হারান তৃণমূলের এক কর্মী। রোববার (১২ মে) বোলপুর আসনের অন্তর্গত কেতুগ্রামের চেঁচুড়ি গ্রামে নৃশংসভাবে খুন হন মিন্টু শেখ নামের (৪৫) ওই ব্যক্তি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি বোমা হামলা করে হত্যা করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন: 

স্থানীয় সূত্রে খবর, রোববার রাতে মিন্টু শেখ তার এক সঙ্গীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সে সময় হঠাৎ করেই কয়েকজন ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসেন। বাইক থামাতেই মিন্টুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো শুরু করে দুর্বৃত্তরা। পরে তার উপরে বোমা হামলাও করা হয়।

এদিকে, এদিন সকালে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনের মন্তেশ্বর ব্লকের টুললা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসী। সেসময় দিলীপ ঘোষের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। পরে জানা যায়, তিনি তৃণমূল কর্মী। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। একপর্যায়ে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে ধরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।

পরে দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা তৃণমূল কর্মীদের দিকে ধেয়ে যান ও তাদের লাঠিচার্জে ১ জন আহত হন বলে জানা যায়। আবার এই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে গণমাধ্যমও। সংবাদমাধ্যমের গাড়িও ভাংচুর করে গ্রামবাসী। বেলা গড়াতেই ফের দিলীপ ঘোষের উপর হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: 

বিকেলে বর্ধমান-উত্তরের ২০৪ নম্বর বুথ থেকে দলীয় এজেন্টকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়ে ছুটে যান দিলীপ ঘোষ। সেসময় তার উপর আবার হামলা হয়। এই হামলায় দিলীপ ঘোষের দুই নিরাপত্তারক্ষী আহত হন। এর মধ্যে একজনের মাথা ফেটে রক্ত বেরোতে থাকে। দিলীপ ঘোষের গাড়ি বহরেও হামলা চালান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।

আবার দুর্গাপুর ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি কর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী ও এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। উত্তেজনা ব্যাপক আকার ধারণ করলে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের তেহট্টের রামজীবনপুর এলাকার কয়েকটি কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এসব কেন্দ্রেও ভোট দিতে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে দাবি বিজেপির। অন্যদিকে তৃণমুলের দাবি, এটা বিজেপির অন্তর্কোন্দল।

আরও পড়ুন: 

অন্যদিকে, ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীর নানা অভিযোগের মুখে পড়েন বীরভূমের তৃণমূল প্রার্থী ও এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। সেসময় শতাব্দী গাড়ির সামনে এসে এক বৃদ্ধা তার ক্ষোভ উগড়ে দেন।

বোলপুর আসনে নানুর বিধানসভার অধীন আটগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া’ ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাছাড়া একাধিক কেন্দ্রে ইভিএম বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেরি হওয়ায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

দুর্গাপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তারা যখন ‍দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন, তখন সুযোগ বুঝে বিজেপি কর্মীরা বাইক বাহিনী নিয়ে এসে তাদের নারী কর্মীদের উপর হামলা চালায় ও ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নারী কর্মী আহত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি লেগে গেলে পুলিশের একটি বড় দল এসে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ করে।

লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফা ভোটগ্রহণ হবে ২০ মে, ষষ্ঠ দফা ২৬ মে ও সপ্তম অর্থাৎ শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে ১ জুন। আর ভোট গণনা শুরু হবে ৪ জুন।

ডিডি/এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।