৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার হলে করণীয়
৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী। লিখিত পরীক্ষার সুযোগ পাবেন মাত্র কয়েক হাজার প্রার্থী। কয়েক হাজারের মধ্যে থাকতে হলে কঠোর পড়াশোনার পাশাপাশি হতে হবে কৌশলী। তাই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৪১তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মো. মাসুদ কামাল—
শেষ সময়ে যা করবেন
১. পরীক্ষার আগে বিগত প্রশ্ন, সাম্প্রতিক চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন (জব সল্যুশন) ভালো করে পড়ে যাবেন। পরীক্ষায় রিপিট প্রশ্ন থাকবে। এগুলো কোনোক্রমেই ভুল করা যাবে না।
২. সব সাবজেক্টের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ একনজরে রিভিশন করে যাবেন। যেগুলো মনে থাকে না কিন্তু পরীক্ষার উপযোগী; সেগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেবেন।
৩. সময় থাকলে ২-১টা মডেল টেস্ট দিন। সময় না থাকলে নতুন করে আর মডেল টেস্ট দেওয়ার দরকার নেই। তবে আগে দেওয়া মডেল টেস্টে যে প্রশ্নগুলো পারেননি বা ভুল করেছেন; সেগুলো আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিন। যাতে পরীক্ষায় পুনরায় ভুল না হয়।
৪. প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে ২ কপি সাথে রাখবেন। পরীক্ষার কেন্দ্রের লোকেশন ভালো করে জেনে নেবেন। প্রয়োজনে যাতায়াতব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক রাখবেন।
৫. পরীক্ষার কেন্দ্রে ৯টার মধ্যেই উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করবেন। সাড়ে নয়টার পর কাউকেই ঢুকতে দেবে না। প্রবেশপত্র, কলম, পেন্সিল ছাড়া কোনো কিছু নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা যাবে না। এমনকি মানিব্যাগও নয়। বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।
৬. পরীক্ষার আগের রাতে ১০টার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। টেনশনে ঘুম আসতে চাইবে না। এটা খুবই স্বাভাবিক। রিলাক্স থাকবেন, সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন। সকালে উঠে প্রার্থনা সেরে সময়মতো রওয়ানা দেবেন।
পরীক্ষার হলে করণীয়
ওএমআর পাওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, নাম, স্বাক্ষর অন্যান্য বিষয় মাথা ঠান্ডা রেখে পূরণ করবেন। কোনো কিছু না বুঝলে দায়িত্বরত শিক্ষকের সাহায্য নেবেন। প্রশ্ন নেওয়ার সময় ওএমআরে পূরণকৃত সেট কোড দেখে প্রশ্ন নেবেন।
প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে দাগানো শুরু করবেন। বাংলা অথবা সাধারণ জ্ঞান অংশ দিয়ে দাগানো শুরু করবেন। পর্যায়ক্রমে সব বিষয় দাগাবেন। ইংরেজি, গণিত ও মানসিক দক্ষতা শেষে দাগাবেন। যে প্রশ্নগুলো পারবেন না বা অপরিচিত; সেগুলো ক্রস চিহ্ন দিয়ে মার্ক করে রাখবেন। যাতে পরে আর পুনরায় পড়তে না হয়। কনফিউজডগুলো গোল করে মার্ক করে রাখবেন। এভাবে ২০০ প্রশ্ন টাচ করার পর কনফিউজড বা গোল দাগ দেওয়া প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে উত্তর করবেন।
কোনোভাবেই আন্দাজে দাগাবেন না। এভাবে সব প্রশ্ন টাচ করার পর প্রশ্নের সাথে ওএমআর মিলিয়ে দেখবেন, জানা প্রশ্ন বাদ গেছে কি না। প্রিলিমিনারি বাদ দেওয়ার পরীক্ষা। একটা ভুল হলে আধা নম্বর কাটা যাবে। তাই ভেবেচিন্তে দাগাতে হবে। কতটা দাগাবেন কিংবা কাটমার্ক কত হবে, এগুলো না ভেবে আপনার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সঠিক উত্তর নির্ভুল ভাবে দাগাবেন। পাশেরজনের উত্তর দেখা বা বলার চেষ্টা না করাই ভালো। কারণ ভুল বলে দিলে আধা নম্বর কাটা যাবে। তাই বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
দায়িত্বরতদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন। কোনো সমস্যা হলে বিনয়ের সঙ্গে বলবেন। পরীক্ষার ২ ঘণ্টা মাথা ঠান্ডা রেখে দাগাতে হবে। সাথে চকলেট রাখতে পারেন। পরীক্ষা শেষ হলে উত্তরপত্র, ওএমআরের ১ম অংশ ভালো করে চেক করে জমা দেবেন।
সারাবছর কত ঘণ্টা পড়েছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরীক্ষার ২ ঘণ্টা কীভাবে কাজে লাগিয়েছেন। পড়তে থাকুন, মাথা ঠান্ডা রাখুন, সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে থাকুন। আপনার জন্য শুভ কামনা।
এসইউ