৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত

আনিসুল ইসলাম নাঈম
আনিসুল ইসলাম নাঈম আনিসুল ইসলাম নাঈম , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

আগামী ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা। ভালো ক্যাডার প্রাপ্তি মূলত নির্ভর করে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বরের ওপর। বর্তমানে নন-ক্যাডার থেকেও ভালো জব পাওয়ার সুযোগ আছে। তাই একটা ভালো লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একটা চাকরি নিশ্চিত করার সুযোগ আছে। ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ৪১তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মো. মাসুম কামাল

বাংলা
২০০ নম্বরের বাংলা প্রস্তুতির শুরুতে বিগত লিখিত প্রশ্নগুলো ভালো করে দেখে নিন। প্রথমে ৬০ নম্বরের ব্যাকরণ ও সাহিত্য অংশের জন্য বিগত প্রশ্ন ভালো করে পড়ুন। এ ক্ষেত্রে যে কোনো গাইড বই থেকে সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশ সিলেবাসের টপিক ধরে ভালো করে পড়ুন। বই আলোচনার জন্য ভালো কিছু লেখার ফরম্যাট দেখে নিন। এ অংশের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের সারাংশ ভালো করে পড়ুন। সারাংশ বা সারমর্ম, ভাব সম্প্রসারণ সরাসরি কমন পাবেন না। লেখার নিয়ম ইউটিউব বা কোনো বই থেকে দেখে নিয়মিত চর্চা করুন।

ইংরেজি
২০০ নম্বরের ইংরেজিতে ভালো করার জন্য নিয়মিত চর্চার বিকল্প নেই। মাঝে মাঝে প্যাসেজ সলভিং অনলাইন বা অফলাইন বা বাসায় নিজে নিজে চর্চা করুন। সামারি রাইটিং, প্রশ্নের উত্তর লেখার নিয়ম দেখে সময় ধরে চর্চা করুন। ভোকাব্যুলারি, বাক্য তৈরি, গ্রামারের জন্য ভালো কোনো বইয়ের সাহায্য নিন।

রচনা
বাংলা এবং ইংরেজি দুই অংশের রচনায় ভালো নম্বর থাকে। প্রস্তুতির ধরনও কাছাকাছি। তাই রচনায় ভালো করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা তালিকা করে নোট করে পড়তে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কোটেশন, ডাটা, চার্ট এবং বুলেট পয়েন্টগুলো বাংলা-ইংরেজি উভয় ফরম্যাটে সুন্দর করে নোট করতে হবে। যাতে বাংলা ও ইংরেজি দুই ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যায়। রচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ ডাটা কাজে লাগাতে হবে।

অনুবাদ এবং ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং
এ অংশে ভালো করার জন্য নিয়মিত প্র্যাকটিসের বিকল্প নেই। এ অংশের প্রস্তুতির জন্য পত্রিকা থেকে সম্পাদকীয় অংশ পড়ে ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করার প্র্যাকটিস করতে হবে। মাঝে মাঝে ইংরেজি সম্পাদকীয় পড়ে নিজের মতো করে লিখতে হবে। এটা সামারি করার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। অনুবাদ এবং ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের জন্য গুগল ট্রান্সলেটর, এআইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে কোনো এক্সপার্ট বা অনলাইন বা অফলাইন কোচিংয়ে চর্চা করতে পারেন। মূলত যত বেশি চর্চা করবেন, এ অংশে তত বেশি ভালো করতে পারবেন।

গণিত ও মানসিক দক্ষতা
এ অংশে মোট ১০০ নম্বর। এর মধ্যে মানসিক দক্ষতায় তুলনামূলক সহজ এবং ভালো নম্বর পাওয়া যায়। এ অংশে ভালো করার জন্য বিগত বিসিএসের লিখিত (২৭তম-৪৭তম) এবং প্রিলির বিগত প্রশ্ন ভালো করে পড়তে হবে। কারণ এ অংশে বেশ কিছু প্রশ্ন রিপিট হয়। ভালো প্রস্তুতির জন্য মানসিক দক্ষতা বা অন্য কোনো গাইড বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন। সাধারণ গণিত অংশের জন্য শুরুতে বিগত প্রশ্নগুলো বুঝে বুঝে সলভ করবেন। তারপর ভালো গাইড বই থেকে টপিক ধরে বুঝে বুঝে অঙ্কগুলো করবেন। এ অংশের জন্য সংশ্লিষ্ট যে কোনো বই দেখতে পারেন। প্রয়োজনে এক্সপার্টের সাহায্য নিন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি
এ অংশে ২০০ নম্বর। প্রিলির সঙ্গে সিলেবাসের কিছু অংশ মিল আছে। গত কয়েক বিসিএস থেকে গতানুগতিক প্রশ্ন আসছে না। বেশিরভাগ প্রশ্ন আসছে বিশ্লেষণমূলক। তাই এ অংশে ভালো করার জন্য পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। পত্রিকা থেকে দেশের সমসাময়িক বিষয়াবলি ভালো করে পড়বেন। বিশেষ করে সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় অংশ ভালো করে পড়বেন। এটা আপনার বিশ্লেষণ শক্তি বাড়াবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, বিভিন্ন রিপোর্ট, সমীক্ষা সংক্রান্ত ডাটা, চার্ট, কোটেশন নোট করে রাখবেন। ভালো মানের কোনো গাইড বই থেকে সিলেবাস ধরে দ্রুত পড়ে ফেলুন। সিলেবাস অনেক বড় তাই দ্রুত পড়ুন এবং ‘কী পয়েন্ট’ নোট রাখুন।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ নম্বর আছে কনসেপ্টচুয়াল ইস্যু অংশে। শুরুতে এ অংশ পড়বেন। বিগত প্রশ্নগুলো ভালো করে পড়বেন। সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক টার্মগুলো নোট করে পড়বেন। প্রয়োজনে ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে নোট করে পড়বেন। এ অংশেও ভালো করার জন্য পত্রিকা পড়ার বিকল্প নেই। পত্রিকা থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাবলি নিয়মিত পড়বেন এবং নোট করে রাখবেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-চীন-ভারত, মায়ানমার, ভারত-পাকিস্তান এবং এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ ভালো করে পড়বেন। এ অংশে ভালো করার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো বই দেখতে পারেন।

বিজ্ঞান
এ অংশে মোট ১০০ নম্বর এবং এখানে প্রশ্ন প্রচুর রিপিট হয়। তাই এ অংশে ভালো করার জন্য শুরুতে বিগত প্রশ্ন ভালো করে পড়বেন। তারপর ভালো কোনো বই থেকে টপিক ধরে ধরে পড়বেন। এ অংশের জন্য সায়েন্স আওয়ার বা ভালো কোনো প্রকাশনীর বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন।

লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস অনেক বড়। তাই সবগুলো সাবজেক্ট দ্রুত একবার রিডিং পড়ার সাথে ‘কী পয়েন্ট’ নোট করুন। পরে ভালো করে রিভিশন করুন। পড়ার পাশাপাশি টাইম ধরে দ্রুত লেখার চর্চা করুন। কারণ পরীক্ষায় অনেক দ্রুত লিখতে হবে। সিলেবাসের টপিক ধরে পড়ুন, ‘কী পয়েন্ট’ নোট করুন, সময় ধরে দ্রুত লেখার অভ্যাস করুন। আশা করি ভালো লিখিত দেওয়ার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পেয়ে যাবেন।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।