যেভাবে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হলেন শাকিল

আনিসুল ইসলাম নাঈম
আনিসুল ইসলাম নাঈম আনিসুল ইসলাম নাঈম , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০৮:১৮ এএম, ০৬ মার্চ ২০২৩

শাকিল আহমেদ ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামে। গ্রামেই কেটেছে তার শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিনগুলো। তিনি কিশোরগঞ্জের আলিয়াপাড়া বড়কান্দা নূরজাহান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আছেন। সম্প্রতি তার বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম—

জাগো নিউজ: ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার পেয়েছেন, আপনার অনুভূতি কী?
শাকিল আহমেদ: ৪০তম বিসিএসের যেদিন রেজাল্ট দেয়; সেদিন যখন দেখলাম যে আমার পুলিশ ক্যাডার এসেছে। নিজের চোখকে যেন ক্ষণিক সময়ের জন্য বিশ্বাসই করতে পারিনি। এ যেন এক অন্যরকম ভালো লাগার বাধভাঙা অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। মনে হলো আমার মা, বাবা, ভাই, বোন, আমার গ্রামবাসীসহ যারা আমাকে নিয়ে ভাবেন; তাদের মুখে আমি হাসি ফোটাতে পেরেছি।

যেভাবে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হলেন শাকিল

জাগো নিউজ: বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
শাকিল আহমেদ: যখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি; তখন থেকেই মূলত বিসিএসের প্রতি একরকম নেশা জন্মে যায়। বিসিএস ক্যাডার হতেই হবে এমন নয় বরং এক প্রকার নেশা থেকেই বিসিএসের প্রতি আসক্তি জন্মে যায়।

আরও পড়ুন: মারিয়ার মাসে আয় ৩০ হাজার টাকা

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, পাশাপাশি প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?
শাকিল আহমেদ: আমি যখন ঢাবিতে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে ফিন্যান্স বিভাগে অধ্যয়নরত; তখন ডিপার্টমেন্টের পড়ার এতো চাপ থাকা সত্ত্বেও আমার বিসিএস পড়া থেমে থাকেনি। উল্টো আরও গতি সঞ্চার হয়েছে। কারণ বিসিএসের প্রতি এক ধরনের পাগলাটে নেশা থেকে। আমার মতে, বিসিএস এক নেশার নাম, প্যাশনের নাম। যে নেশায় পড়লে জাগতিক সবকিছু তুচ্ছ মনে হয়, শুধু বিসিএসই ধ্যান-জ্ঞান মনে হয়। তারপরও ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পড়ার চাপ সামলে বিসিএস পড়া যথেষ্ট কঠিনই ছিল। এরপরও ভালো লাগা থেকে বিসিএস নিয়ে পড়তাম। বিসিএসের প্রতি এক ধরনের আসক্তি, নেশা ও ভালো লাগা থেকেই বিসিএসের পড়া শুরু আমার। প্রস্তুতিটা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের রুমে। আমার ৫/খ রুমের প্রত্যেক রুমমেট অত্যন্ত মেধাবী ও সবাই বিসিএস পাগল ছিলেন। সবাই মিলে পড়তাম। এমনকি বিসিএস নিয়ে আমরা আনন্দ করতাম, পড়াশোনা ভাগাভাগি করতাম, লেকচার দিতাম। তবে আমি বিসিএসের জন্য কোথাও কোনো কোচিং করিনি।

জাগো নিউজ: পর্দার আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন?
শাকিল আহমেদ: যে কোনো সফলতার পেছনেই অনুপ্রেরণা একটা বড় জিনিস। অনুপ্রেরণা ছাড়া সফলতা ধরা দেয় না। আমার বিসিএস জার্নিতে পর্দার আড়াল থেকে যে মানুষটি সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, তিনি হলেন আমার প্রাণপ্রিয় বড় ভাই হেলাল উদ্দিন রাসেল। তিনি আমার মধ্যে বিসিএসের নেশা জাগিয়ে তুলেছিলেন। ক্যাডার হতে হবে এমন এক বোধ জন্ম নিয়েছিল আমার মধ্যে। তার দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা ছাড়া আজকের এই অবস্থানে আসা কঠিন হতো।

যেভাবে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হলেন শাকিল

জাগো নিউজ: নতুনরা বিসিএস প্রিলির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
শাকিল আহমেদ: নতুনদের বিসিএস প্রিলির জন্য পড়াশোনায় লেগে থাকতে হবে। যার যার দুর্বল জায়গাগুলোয় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রচুর মডেল টেস্ট দিতে হবে (এজন্য বাজারে বই আছে)। প্রচুর পড়তে হবে তবে মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে। কোথায় কোথায় বা কোন কোন বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি আছে, তা নিজেকেই আবিষ্কার করতে হবে। এমনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে বিসিএস প্রিলির প্রশ্নের প্যাটার্ন বুঝতে পারা যায়। মনে রাখতে হবে, বিসিএস প্রিলির ক্ষেত্রে প্রশ্নের প্যাটার্ন বোঝাটা জরুরি। যেমন প্রশ্ন সহজ এলে একটু বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, আবার প্রশ্ন কঠিন এলে অযথা দাগানো যাবে না। কিছুটা কম প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অধিক পড়াশোনা, বিগত বিসিএসের প্রশ্নের পর্যালোচনা ও মডেল টেস্ট দিয়ে প্রশ্নের প্যাটার্ন বুঝতে হবে। বিসিএস প্রিলি কঠিন নয়। সঠিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিসিএস প্রিলি পাস করা সহজ হবে। বিসিএস প্রিলির জন্য সমমনা বন্ধুদের সঙ্গেও পড়াশোনা শেয়ার করা যায়। এতে কার্যকর হয়, মনে থাকবে পড়াগুলো।

আরও পড়ুন: ২ হাজার টাকার মূলধনে লাখোপতি কথা

জাগো নিউজ: প্রিলি শেষ করার পর বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?
শাকিল আহমেদ: প্রিলি শেষ করার পর বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। বিগত বিসিএস লিখিত প্রশ্নাবলি দেখে প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা নিজের মধ্যে তৈরি করে নিতে হবে। আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নগুলো কমন পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। যে কোনো বিষয় সম্পর্কে যেটুকু ধারণা আছে; সেটুকু গুছিয়ে সুন্দরভাবে লিখতে পারার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

যেভাবে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হলেন শাকিল

জাগো নিউজ: বিসিএস ভাইবার প্রস্তুতি কেমন হতে হয়?
শাকিল আহমেদ: বিসিএস ভাইভার জন্য আত্মবিশ্বাস রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাইভায় কী প্রশ্ন করবে, সেটি অনেকটা ভাগ্যের ওপরও নির্ভর করে। তবে ভাইভার ক্ষেত্রে ইংরেজিতে স্পিকিং প্র্যাকটিস করাটা জরুরি। বিসিএস ভাইভায় ইংরেজিতে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে ইংরেজিতে উত্তর দিতে হবে। বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলো গুছিয়ে পজিটিভলি উত্তর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিসিএস ভাইভার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসটা অনেক বড় ফ্যাক্ট।

জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
শাকিল আহমেদ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হওয়া। পাশাপাশি ফ্যামিলি ও আত্মীয়-স্বজনের উপকারে যেন আসতে পারি। তাদের কল্যাণার্থে যেন কাজ করতে পারি, তার জন্য নিজেকে গড়ে তোলা।

এসইউ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।