বাঁশখালীতে এস আলমের ড্রেজিং বন্ধে নিস্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বড়ঘোনায় এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃক ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং বালুমহাল বিধি ২০১১-এর বিধি-৫ লঙ্ঘন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এছাড়া এস আলম গ্রুপ কর্তৃক গন্ডামারা এলাকায় ড্রেজিং ইকোনোমিক জোন-১ ও ২ তৈরির নামে সমুদ্রের ব্রেকওয়াটার অপসারণ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেই বিষয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাঁশখালী উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসারসহ ১৪ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ফারুক হোসেন।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর গন্ডামারা বরগুনা বহুমুখী সমবায় সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন এ রিট দায়ের করেন।

জানা গেছে, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলেদের কর্মব্যস্ততার প্রাণকেন্দ্র। প্রায় সময় এ জেটিঘাট থেকে তিন হাজারেরও বেশি জেলে নৌকা ও সাম্পান নিয়ে গভীর সাগরে মাছ আহরণে যান এবং জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি এস আলম গ্রুপের কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে এ জেটিঘাটে জেলেদের জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাহাজের ধাক্কায় বসানো জাল ছিঁড়ে যাওয়া, রাতের আঁধারে সাম্পানে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটার মতো ঘটনাও নিত্যদিনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা।

অন্যদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ‌‘জেটিঘাট প্রকল্পের নিজস্ব এলাকা। ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান। সেখানে জেলেদের নৌকা ভিড়তে দিলে কয়লাবাহী লাইটার জাহাজে বিঘ্ন ঘটে। অনেক সময় চুরি-ডাকাতির ঘটনাও ঘটে। প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কাজের স্বার্থেই জেটিতে জাল বসানো বা নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না।’

এফএইচ/বিএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।