সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবার পেছালো
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আবারও সময় বাড়িয়েছেন আদালত। আগামী ১ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৪ বার পেছানো হলো।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হককে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে আদালত নতুন দিন ধার্য করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা চাওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর রহমান খান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন। অন্য আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের নিজ বাসায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্তভার ছিল থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) ওপর। চার দিন পর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সবশেষে, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তে অগ্রগতির লক্ষ্যে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
এমডিএএ/এএমএ