বার নির্বাচন
পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন এনসিপির প্রার্থী
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে (২০২৬-২০২৭) সম্পাদক পদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’র প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন লিপু। রোববার (৩ মে) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী। দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একতরফা পাতানো নির্বাচনের অভিযোগ তুলে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বলে জানা গেছে।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পর এ বিষয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু লেখেন, সরকার দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটি একতরফা, লোক দেখানো, পাতানো নির্বাচনের প্রতিবাদে আমি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের (২০২৬-২০২৭) সম্পাদক পদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
প্রসঙ্গত, এক বছর মেয়াদের এই সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহ-সম্পাদক ও সাতজন সদস্য।
আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) দুই দিনব্যাপী নির্বাচন আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ নিয়ে গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন দুই পক্ষের আইনজীবীরা।
তবে কতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে, কতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আজ ৩ মে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আজই চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির মঞ্জু।
এদিকে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, জুলাই যোদ্ধা ও বেশ কয়েকজন সাধারণ আইনজীবী সমিতিতে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, আগে যারা আওয়ামী লীগের প্যানেলে বা ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন, তাদের যেন এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না হয়। দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সেই সভায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
এফএইচ/এমএমকে