আদাবরে রুবেল হত্যা মামলা
ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার ৪ দিনের রিমান্ডে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩ মে) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আদেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে, ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় নিউমার্কেট থানার অধীনে তাকে তিন দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২২ এপ্রিল রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিন, ২৬ এপ্রিল চার দিন এবং ৩০ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
সর্বশেষ রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ টিপু সুলতান।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয় এবং আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর পৃথক শুনানিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে আদাবরের রিংরোড এলাকায় রুবেলসহ কয়েক শ ছাত্র-জনতা প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা করেন নিহত রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
এমডিএএ/এমএমকে