ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যু মামলায় রিমান্ড শুনানিতে বিতর্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর রিমান্ড শুনানি ঘিরে আদালতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কিছু বক্তব্যে আপত্তি তোলে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান এবং মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে জানান, আদালতে একটি পেনড্রাইভ উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভিকটিমের (ভুক্তভোগী) এক বান্ধবীর সঙ্গে তার মায়ের প্রায় ২১-২২ মিনিটের একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে। এই রেকর্ডটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সংরক্ষিত। ওই অডিওতে ভিকটিমের মা তার মেয়ের চরিত্র নিয়ে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলেন।
মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে আদালতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলে, এটি বর্তমান ঘটনার সময়কার কোনো তাৎক্ষণিক আলামত নয়; অনেক আগের একটি কথোপকথন, যা চলমান ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবুও আসামিপক্ষ পেনড্রাইভটি দাখিল করলে আদালত সেটি আমলে নেন এবং রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তিন দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে। এর বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষ পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডের দাবি জানায়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত মামলার প্রেক্ষাপট ও রিমান্ডের যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ড. সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন
রাতে শিক্ষকের সঙ্গে ভিডিও কল, ভোরে মেলে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ
শুনানিতে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী দাবি করেন, তদন্তের অগ্রগতি ও কিছু কথোপকথনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিকটিমের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থা কেন্দ্র করে কিছু মন্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির মুখে পড়ে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর আদালতে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন। তার দাবি, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সঠিক তদন্তের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানির এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানালে বিচারক মন্তব্য করেন, ‘ভিকটিমের বিচার করা হচ্ছে না।’
এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন তার বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন।
পরবর্তীসময়ে আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পরে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এমডিএএ/এমএমকে