হাছান মাহমুদ-নওফেলসহ ১৭ জনকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় এ মামলা হয়।
স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে তাদের খুঁজে পাননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এমন তথ্য জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এরপর পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও মো. জহিরুল আমিন। ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে ফারুক আহাম্মদ বলেন, এ মামলায় মোট আসামি ২২ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে তাদের খুঁজে পাননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে একজন অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশনা চান রাষ্ট্রপক্ষ।
শুনানি শেষে পলাতক ১৭ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া অন্য মামলায় গ্রেফতার করে নিয়ে আসা আসামিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আরও পড়ুন
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা কবে, কী বলছে এনটিআরসিএ
শ্যামপুরে বিএনপি নেতা হত্যা: ২২ বছর পর ৬ জনের যাবজ্জীবন
এদিন সকালে কারাগার থেকে চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম ও মো. ফিরোজ।
পলাতকরা হলেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, দেবাশীষ পাল দেবু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরও আগে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গত ৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ( ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়।
প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগ
প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় আনা হয়।
এছাড়া জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয় তৃতীয় অভিযোগে।
এফএইচ/কেএসআর